| |

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের জনসভায়

ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে নৌকায় ভোট চাই : ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ৯:০৫ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০২, ২০১৮

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ‘রিক্ত আমি নিঃস্ব আমি/ দেবার কিছু নাই/ আছে শুধু ভালবাসা/ দিয়ে গেলাম তাই’Ñ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি তফসিলের আগে নিজের শেষ নির্বাচনি জনসভায় এভাবেই ময়মনসিংহবাসীকে বিদায় জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চলমান সংলাপের মধ্যেই আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই জনসভায় বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি। যদিও সংলাপের বিষয়ে কোনো কথঅ তিনি বলেন নি। আগামী নির্বাচনে ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের কাছে আমার এই আবেদন থাকবে, জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন ভোট দেবেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামূল আলম ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আহমদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ইকরামূল হক টিটু প্রমূখ। নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ঘোষনা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিকী চাবি উপহার দেন জেলার স্থানীয় নেতারা।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দরিদ্রমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র যেখানে ৪০ ভাগ ছিল তা ২১ ভাগে নেমে এসেছে। এর আগে যেভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন, আগামীতে সেভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এই দারিদ্রসীমা আমরা যাতে আরও ৫-৬ ভাগ কমিয়ে আনতে পারি সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে আমরা ভিক্ষুকমুক্ত করবো। যারা কর্মক্ষম না তাদেরকে আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দেবো। এই বাংলাদেশ জাতির পিতার বাংলাদেশ। কেউ ভিক্ষুক থাকবে না, কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না। কেউ অশিক্ষিত থাকবে না। তিনি বলেন, আমাদের যুব সমাজ, আমাদের তরুণরাই আমাদের শক্তি। তিনি এসময় যুবকদের উদ্দেশ্যে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যেই এই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা এখানেই থেমে থাকছি না। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। শত বছরে বাংলাদেশ কিভাবে উন্নত হবে সেই পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। ২১০০ সালের পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি। এজন্য দরকার আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা।
‘বাংলার মানুষ যেন ভালভাবে বাচতে পারে’ এটা নিজের কর্তব্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারে। প্রতিটি মানুষের ঘর থাকবে। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে নাÑএটাই আমি চাই। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি, কোনো মানুষ যেনো গৃহহারা না থাকে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাবে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার জন্য ১৯৫ টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালি বিভাগ নামকাওয়াস্তে না। এই বিভাগে একটা বিভাগীয় সদর দপ্তর করার প্রকল্পের ইতোমধ্যে আমরা করে দিয়েছি। যে কাজগুলি আমরা করেছি, সেই কাজগুলি সম্পন্ন করতে হবে।
এই এলাকার কর্মস্থানের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে আমরা মানুুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। প্রত্যেকটা মানুষ যেন ভালভাবে চলতে পারে। নিজের ভেতর একটা আত্মবিশ^াস নিয়ে চলতে হবে।
ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার হবে বাংলাদেশের নারীরা। তিনি বলেন, সজিব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন দেশে ১৬ কোটি মানুষের ১৫ কোটি মোবাইল। ১০ কোটি মানুষের ঘরে ঘরে এখন ইন্টারনেট।

দুপুর থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউস মাঠের জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে আসতে থাকে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে জনসভায় যোগ দেয় প্রায় লক্ষাধিক নারী-পুরুষ। গোটা ময়মনসিংহ মহানগরী রূপ নেয় মিছিলের নগরীতে। নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামূল হক টিটুর সমর্থকরা ব্যান্ডপার্টি সহকারে নৌকামার্কার গেঞ্জি, রং- বেরং এর পোশাক পরে শ্লেগানে শ্লোগানে মূখরিত করে তোলে সভাস্থল।
এর আগে বিভাগীয় সদর দফতরের বিভিন্ন কার্যালয়, বিভাগীয় স্টেডিয়াম, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন, ৩৬০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পের সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো ময়মনসিংহে নতুন বিভাগীয় শহরের ভিত্তিপ্রস্তর, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, বিভাগীয় সার্কিট হাউজ, বঙ্গন্ধু নভোথিয়েটার, বিভাগীয় স্টেডিয়াম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আরআরএফ-ময়মনসিংহ রেঞ্জ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল।
এছাড়াও ময়মনসিংহ জেলায় ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, গৌরীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সদর উপজেলার সিরতায় ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ মেমোরিয়াল ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, নান্দাইল উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ, হালুয়াঘাট উপজেলায় মডেল মসজিদ, ধোবাউড়া উপজেলায় মডেল মসজিদ ও জেলার হাইটেক পার্ক। পাশাপাশি নেত্রকোনা ও জামালপুরেও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে দেশের অষ্টম বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর সরকার ময়মনসিংহ বিভাগ গঠন করে গেজেট প্রকাশ করে। এরপর সম্প্রতি ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে শেষবারের মতো জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting