| |

সর্বশেষঃ

আশা ছাড়ছে না ঐক্যফ্রন্ট : ড. কামাল

আপডেটঃ ৬:২৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৭, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংলাপে কোন দাবি না মানা সত্বেও এখনও সুযোগ দেখছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের ভাষ্য, সংলাপে আমরা আমাদের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম। সরকার বলেছে, সুযোগ আছে আলোচনার। সেই সুযোগটা থাকবে। সুতরাং সন্তুষ্ট-তন্তুষ্ট বাদ দেন। এখন এটা বলতে চাচ্ছি না। আমরা বলতে চাচ্ছি, জনগণকে নিয়েই আমরা সন্তুষ্ট আদায় করবো।

বুধবার ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোড়ের বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

এর আগে গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ করেছে ঐক্যফ্রন্ট। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে প্রবেশ করেন।

প্রথম দফা সংলাপে বলেছেন, আপনারা সন্তুষ্ট না- এই সংলাপে কী পেলেন- এমর প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্টের বিষয় নয়। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম। সরকার বলেছে, সুযোগ আছে আলোচনার। সেই সুযোগটা থাকবে। সুতরাং সন্তুষ্ট-তন্তুষ্ট বাদ দেন। এখন এটা বলতে চাচ্ছি না। আমরা বলতে চাচ্ছি, জনগণকে নিয়েই আমরা সন্তুষ্ট আদায় করবো।

রাজনীতি সংঘাতের দিচ্ছে যাচ্ছে, না কী শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকবে- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দায়- দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারের। এবক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান ড. কামাল হোসেন। বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, সবকিছু একটা স্থিতি ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের মধ্যে দিয়ে হোক। কিন্তু বল তো সরকারের কোর্টে।

এরআগে লিখিত বক্তব্য কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং ঐক্যফ্রন্ট কর্তৃক ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য গত ১ নভেম্বর ও আজকে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে সংলাপে আহ্বান করায় আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আজকের সংলাপে আমরা ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছি।

তিনি বলেন, সারাদেশে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোন হয়রানি, গায়েবি মামলা দায়ের হবে না ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না- বলে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন।

৭ দফা দাবির বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে- এই প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, দাবিগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে সীমিত আকারে আলোচনা হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তির বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ দফা দাবির মধ্যেই প্রথম দাবিই ছিল বেগম জিয়ার মুক্তি। এরপর সরকারের পতদ্যাগ ও ইসি পুনর্গঠন। এবিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তবে আমরা প্রস্তাব করেছি যে, এবিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করবো।

তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা বলেছেন, তফসিল ঘোষণার সাথে এই আলোচনা কোন সম্পর্ক থাকবে না। প্রয়োজনে তফসিল আবার পরেও ঘোষণা করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে একই বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা তফসিল ঘোষণা করতে মানা করেছি। বলেছি, ঘোষণা করলে আমরা নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য পথযাত্রা করবো। আর দিলেও আমরা তো মানছি না।

সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে কী না- এই প্রশ্নের জবাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ফখরুল বলেন, ফলপ্রসূ হয়েছে কী না। সেটা তো বুঝা যাবে না। আমরা বলেছি, আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সংলাপে আশার আলো দেখছেন কী না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণ আশার আলোচনা দেখলে, দেখা হবে। কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা কালকে রোডমার্চে করে রাজশাহী যাচ্ছি। সেখানে সমাবেশ করবো।

৭ দফা দাবির মধ্যে কয়টা দাবি মেনেছে, আর কয়টা মানেনি- এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, পুরোটাই আমরা বিবেচনা করছি। পরে জানাবো।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কী না- জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এধরণের কোন প্রস্তাব করি নাই। কোন আলোচনাও হয়নি। তবে মুক্তি ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে যে, তিনি তো আইনগতভাবেই জামিন পাওয়ার যোগ্য। তফসিল ঘোষণা করলে ইসির উদ্দেশ্য পথযাত্রা করবেন কী না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসূচি তো দেওয়াই আছে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব সংবিধানে নেই- ওবায়দুুর কাদেরের এই বক্তব্যে প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়ে মান্না বলেন, আমরা বলেছি, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই তো নির্বাচন হবে। এটা এখনো আমাদের সংবিধানে আছে। সুতরাং তিনি ভুল বলেছেন।

একই বিষয়ে ফখরুল বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি। সরকার কী রাজি হয়েছেন- সাংবাদিকদের পরবর্তি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা বলেছেন, আলোচনা হতে পারে। ঐক্যফ্রন্টের কোন দাবিই মানা হয়নি, সুতরাং সংলাপে সমস্যা সমাধান সম্ভব কী না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংলাপকেই আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি। এখনও আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য আপনারা ১০ জন উপদেষ্টার নাম প্রস্তাব করেছেন কী না- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, আমরা চাচ্ছি জনগণের দাবি। সরকার এটা না মানলে আন্দোলন করে আদায় করবো।

নির্বাচনকালীন সরকারের সুযোগ সংবিধানের মধ্য নেই- ওবায়দুল কাদের এই বক্তব্যর বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এই কথা বলার অর্থই হচ্ছে, জরগণের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই। জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা নেই।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের অপর ১১ সদস্যরাও সংলাপে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন: বিএনপির মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুল রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আনিসুল হক, দীপু মনি ও শ ম রেজাউল করিম। এছাড়া শরিক দলের মধ্যে ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

এর আগে ১ নভেম্বর প্রথম দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তিসহ সাত দফা দাবি নিয়ে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সংলাপ করেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting