| |

সর্বশেষঃ

তারামন বিবির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো

আপডেটঃ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১০, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তিনি এখন সবার সঙ্গে কথা বলছেন এবং খাবারও খেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে আবু তাহের। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া কুড়িগ্রামের তারামন বিবি গত তিনদিন ধরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

গতকাল সন্ধ্যায় তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের এবং কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন ঢাকাটাইমসকে এসব তথ্য জানান।

কয়েকদিন আগে দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট আর কাশি বেড়ে যায় তারামন বিবির। বিশেষ করে শীতের আমেজ শুরু হওয়ায় ঠাণ্ডা লেগে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। নিজে নিজে ভালোভাবে হাঁটা-চলাও করতে পারছিলেন না।

তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক (সিএমএইচ) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে বিকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়।
অসুস্থ তারামন বিবিকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন ও নিয়মিত খোঁজ-খবর নিতেন রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সেখানকার চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার ছেলে আবু তাহের বলেন, ঠা-াজনিত কারণে মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, সঙ্গে কাশিও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তাকে কয়েকবার অক্সিজেন ও নেবুলাইজেশনে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। তিনি অসুস্থ হওয়ায় একা চলাফেরা করতে পারছিলেন না। অন্যের সহযোগিতা নিয়ে চলাচল করতেন। রাজীবপুর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা নিয়মিত বাড়িতে এসে চিকিৎসা দিতেন।

গত বুধবার রাতে মায়ের শরীরের অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তাই তাকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে মায়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে আনা হয়।

তিনি তার মায়ের সুস্থতার জন্য সবার দোয়াও চেয়েছেন।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, আমি প্রতিনিয়ত তার খোঁজখবর রাখছি। আজকে (গতকাল) সকালেও তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি খাবরও খেয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। আমি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককেও তার অসুস্থতার বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি যেন উন্নত চিকিৎসাসেবা পান, সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে পবিবারের সঙ্গে বসবাস করেন বীরপ্রতীক তারামন বিবি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১১নম্বর সেক্টরের হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। জীবনবাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না-বান্না, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানি বাহিনীর খবরাখবর সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়াসহ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তার আরো অনেক অবদান রয়েছে। অসীম বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বীরপ্রতীক খেতাব পান তিনি।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting