| |

সর্বশেষঃ

উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে পাঠক হারাচ্ছে জামালপুর গণ-গ্রন্থাগার

আপডেটঃ ১২:১৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১২, ২০১৮

জামালপুর প্রতিনিধি : নানা সমস্যার মুখেও অন্ধকারের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে জামালপুর গণ-গ্রন্থগার। লোকবল সংকট, ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট, লাইব্রেরির চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, দেয়ালের গা ঘেঁষে অবৈধ দখল, দেয়াল টপকিয়ে অভ্যন্তরে মাদক সেবন, বেওয়ারিশ গরুর উৎপাত সব মিলিয়ে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে কাঙ্ক্ষিত পাঠক আসছেন না লাইব্রেরিটিতে।

গণ-গ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও লাইব্রেরির পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উন্নয়ন হচ্ছে না। সবাই চলছে দায় এড়িয়ে। ফলে পাঠক সমাগম খুব একটা হচ্ছে না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও পাঠকবান্ধব গণ-গ্রন্থগার গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পাঠকরা।

জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ হারুন সড়কে ৫ হাজার ২ শ বর্গফুট ভবনে লোকবল সংকট নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে গণ-গ্রন্থাগারটি। লাইব্রেরিটিতে কর্মরত রয়েছেন একজন লাইব্রেরিয়ান, একজন লাইব্রেরি সহকারী ও একজন অফিস সহায়ক কাম নাইট গার্ড। সহকারী লাইব্রেরিয়ান ও বুক সাটার পদ শূন্য রয়েছে।

শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বসাধরণের জন্য খোলা থাকে এটি। অভ্যন্তরে সারি সারি বইয়ের গ্যালারি। কোন ক্যাটাগরির বই কোথায় পাওয়া যায় বইয়ের তাকে রয়েছে সেই নাম। এই লাইব্রেরিতে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনী, ইতিহাস, আত্মজীবনী, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীসহ নানা ক্যাটাগরির প্রায় ৪০ হাজার বই রয়েছে।

দুই ক্যাটাগরির পাঠক রয়েছে এখানে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত। নিবন্ধিত পাঠকরা পছন্দের বই বাড়িতে নিয়ে পড়তে পারেন। আর অনিবন্ধিত পাঠকরা লাইব্রেরিতে বসে বই পড়েন। রয়েছে জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থা।

এ ছাড়াও এই লাইব্রেরির উল্লেখযোগ্য পাঠক সেবা হলো- পাঠক সেবা, রেফারেন্স সেবা, সাম্প্রতিক তথ্যজ্ঞাপন সেবা, পরামর্শ সেবা, নির্বাচিত তথ্য বিতরণ সেবা, তথ্য অনুসন্ধান সেবা, পুস্তক লেনদেন সেবা, ফটোকপি সেবা, উপদেশমূলক সেবা, পুরাতন পত্রিকা সেবা ও ইন্টারনেট সেবা।

এর মধ্যে কিছু কিছু সেবা লোকবলের অভাবে পাচ্ছেন না এই লাইব্রেরিতে আসা পাঠকরা। লাইব্রেরির অভ্যন্তরে মনোরম পরিবেশে বই পাঠের ব্যবস্থা থাকলেও লাইব্রেরির পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় পাঠকদের লাইব্রেরিমুখী হওয়ার আগ্রহ দিনকে দিন কমছে।

গণ-গ্রন্থাগারের সামনের সড়ক ময়লা-আবর্জনায় উপচে থাকে। দেয়ালের গা ঘেঁষে অবৈধ দখল, বেওয়ারিশ গরুর অবাধ বিচরণের কারণে গোবর পেরিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে হয়। রাতে দেয়াল টপকে লাইব্রেরি অঙ্গনে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক সাজ্জাদ আনসারী বলেন, একটি লাইব্রেরি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পুরো এলাকাকে বদলে দেয়। অথচ জ্ঞান আহরণের কেন্দ্রটি চারপাশ থেকে চেপে ধরেছে। এসব সমস্যা দূরীকরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি।

গণ-গ্রন্থাগারে পাঠরত অবস্থায় দেখা হয় কবি মাহবুব বারীর সাথে। তিনি বলেন, গণ-গ্রন্থাগার এলাকাটি আবাসিক এলাকা হলেও পেছন দিকে বিশাল বস্তি রয়েছে। এসব মানুষকে গণ-গ্রন্থগারের গুরুত্ব এবং এর রক্ষণাবেক্ষণে সচেতন করতে আমাদেরই কাজ করতে হবে। তা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। পাঠককে লাইব্রেরিমুখী করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জামালপুর গণ-গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ফরিদা আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে গণ-গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে চিঠি, মাসিক সমন্বয় সভায় সমস্যাগুলো নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের একাধিক বার দৃষ্টি আর্কষণ করেও সমাধান পাচ্ছি না।

জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি বলেন, গণ-গ্রন্থগারের সামনে অসচেতন মানুষ রাস্তার মধ্যে ময়লা ফেলায় লোকজনের চলাচলে আসলে খুবই অসুবিধা। স্থানটির আশপাশে ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ নিয়ে জামালপুরের জেলা প্রসাশক আহমেদ কবির বলেন, গ্রন্থগারের চারপাশের সমস্যা ও পরিবেশ আমি নিজেও দেখেছি। পৌরসভার মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছি ময়লা-আবর্জনা ও বেওয়ারিশ গরুর বিষয়ে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ গণ-গ্রন্থাগারের পাঠকবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন তিনি।

জামালপুর গণ-গ্রন্থগারে বিদ্যমান সমস্যা দূর করে লাইব্রেরিটিতে পাঠকবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে পাঠক সমাগমে মুখরিত থাকবে লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ- এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting