| |

সর্বশেষঃ

ঈদে মিলাদুন্নবীতে রাজধানীতে জশনে জুলুস

আপডেটঃ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২১, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজধানীসহ সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়ার মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া, মাইজভাণ্ডারী অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন পৃথক পৃথক রাজধানীতে জশনে জুলুস বের করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

বুধবার সকালে রাজধানীর শাহজানপুর রেলওয়ে ময়দান থেকে বিশাল জুলুস বের করে আশেকানে মাইজভাণ্ডারী অ্যাসোসিযেশন। শাহজানপুর হয়ে আরামবাগ, মতিঝিল হয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরে আবার শাহজাহানপুর রেলওয়ে ময়দানে গিয়ে জুলুসটি শেষ হয়। জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন শাহসুফী মাওলানা সৈয়দ মুজিবুল বশর আল হাছানী মাইজভাণ্ডারী।

এর আগে রেলওয় ময়দানে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল হয়। মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান পীর মাওলানা সৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শাহজাদা সৈয়দ নুরুল বশর আল হাছানী মাইজভাণ্ডারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট ড. প্রফেসর নিজামুল হক ভুইয়া, জিটিভির সিইও ও সাংবাদিক নেতা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

সৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, যাকে সৃষ্টি না করলে আসমান জমিন কিছুই সৃষ্টি করতো না মহান আল্লাহ পাক, সেই সর্বশ্রেষ্ট নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন উপলক্ষে পবিত্রতার সঙ্গে জিকির আজকারের মাধ্যমে আমরা জশনে জুলুস ও খুশি উদযাপন করি। এই যত সামান্য এবাদত বন্দেগী তথা জুলুসের মাধ্যমে মূলত মহানবীর আগমনের শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, যাকে সৃষ্টির কারণে সকল সৃষ্টির আয়োজন, সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব যার ওপর নাজিল হয়েছে সেই সর্বশ্রেষ্ট রাসুল (সা.) এর মহান আদর্শ অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা অশান্তি ও অবিচার থেকে মুক্তি পেতে পারি। মুক্তি পেতে পারে বিশ্ব মানবতা।

পরে তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনু্ষ্ঠানের সমাপ্তি করেন।

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে সকালে জশনে জুলুস বের করে আনজুমানে রহমানিয়ার মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়। মৎস্যভবন হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে জশনে জুলুস শেষ হয়। মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের পীর সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী জুলুসে নেতৃত্ব দেন। এতে তাদের অনুসারী বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেন।

পরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের পীর সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী।

উল্লেখ্য, হিজরি সনের ১২ রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করা হয়। এদিন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে বাবা আব্দুল্লাহ ও মা আমেনার ঘরে শুভাগমন করেন মানবতার মুক্তির দুত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ইসলামের সুমহান দ্বীন প্রচার শেষে ৬৩ বছর বয়সে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ১১ হিজরির ঠিক এই দিনেই তিনি আল্লাহ প্রদত্ত রিসালাতের সব দায়িত্ব পালন শেষে আল্লাহতায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে মাওলার সান্নিধ্যে গমন করেন।

এজন্য দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ নবীর জন্ম ও মৃত্যু একইদিনে হলেও মুসলিমরা দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বা জন্ম উৎসবের দিন হিসেবে পালন করে থাকেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার পাশাপাশি পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও দিবসটির যথাযোগ্য গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting