| |

সর্বশেষঃ

ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা

আপডেটঃ ১:৫০ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০২, ২০১৯

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা চরাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ভ্ট্টুার চাষ হয়েছে। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবছর তামাকের চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যমুনার বুক চিরে জেগে ওঠা মাঠ জুড়ে দেখা যাচ্ছে ভুট্টা গাছের সবুজ পাতার সমাহার। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এ যেন সবুজের এক নব দিগন্ত। ভুট্টা গাছের সঙ্গে মিশে আছে কৃষকের মধু মাখা হাসি। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলন আশা করছে চরাঞ্চলের চাষিরা।

যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা বেশি লাভের আশায় গত কয়েক বছর যাবৎ অধিকাংশ জমিতে তামাক চাষ করে আসছিল। সম্প্রতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তামাকের ক্ষতিকারক দিগগুলো তুলে ধরেন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে। অপর দিকে একই জমিতে ভুট্টা চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ার বিষয়টিও কৃষকদের মাঝে তুলে ধরেন। কৃষি অফিসের এমন আশ্বাসে এখন দিগন্ত জোড়া যমুনার মাঠে বাতাসে দোল খাচ্ছে সবুজ-শ্যামল ভুট্টা আর ভুট্টা।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার যমুনা নদীর র্তীরবর্তী অর্জুনা, গাবসারা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নে জেগে ওঠা যমুনার চরে ভুট্টা গাছের সবুজ সমারহে ছেড়ে গেছে। জমিতে ফলনের আকৃতি ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। অন্যান্য রবি শস্যের চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় ভুট্টার এ বিপ্লব দেখা দিয়েছে। তাছাড়া সহজে আবাদযোগ্য ও অধিক লাভজনক হওয়ায় তামাকের চেয়ে ভুট্টা চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হয়েছে।

গাবসারা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের ভুট্টা চাষি রহিজ উদ্দিন বলেন, তামাকের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ অনেক কম ও অধিক লাভজনক। কারণ ভুট্টায় তেমন পানি সেচেয় প্রয়োজন হয়না। তাছাড়া কীটনাশক ও সারের ব্যবহার অনেক কম। যায় ফলে চলতি বছরে আমি প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। আশা করছি ফলন ভালো হলে ২৫ বিঘায় প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মন ভুট্টা পাবো।

গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কোনাবাড়ী চরের ভুট্টা চাষি শুক্কুর আলী বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের চরাঞ্চলের ভুট্টা চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের ভুট্টা বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তারা আমাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তাদের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় এবছর আমি তামাকের পরীবর্তে ভুট্টা চাষ করেছি। গত বছর বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলাম, তা এবছর ভুট্টা চাষ করে পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪শ হেক্টর জমিতে এসিআই, ২৫০ হেক্টর জমিতে করবি এবং ১৫০ হেক্টর জমিতে এলিট ও মিরাকেল জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসাব মতে এবছর প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, চলতি বছরে যমুনা চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলন আশা করছি। আমরা কৃষি অফিস থেকে ভুট্টা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সরকারি প্রণোদনা দিয়ে আসছি। যাতে চরাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারে।

HostGator Web Hosting