| |

সর্বশেষঃ

তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার : আইনমন্ত্রী

আপডেটঃ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এবিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যে কোন অপরাধী যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা খাটানোর ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত তৎপর বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আপিলে থাকা মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত কার্য তালিকায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

রোববার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের ৩৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সে বিষয়ে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে ভালভাবে বুঝাতে পারলে তারা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নিবেন এবং সেই চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয় সেসব দেশের আদালতগুলো এবং এই পরামর্শের কারণে সেখানে শতকরা ৯০ ভাগ বিরোধ/মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এভাবে তাদের জুডিসিয়ারির উপর চাপ কমে আসছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কেবল আইনের শাসনই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র দূরীকরণেও জুডিসিয়ারি বিশেষ করে কোয়ালিটি জুডিসিয়ারির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই জনগণকে কোয়ালিটি জুডিসিয়ারি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বিচার বিভাগকে সবধরণের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মামলাজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে যে বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রই হল বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। মোটকথা বিচারপ্রার্থী জনগণের অল্প সময়ে, অল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করণে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিছক গতানুগতিক বা দায়সারা ভাব পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

বিচারকদের বিন্দুমাত্র লোভ কিংবা অসততার কারণে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন আইনমন্ত্রী। বলেন, বিচারকদের পেশার গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করেই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশ মাতৃকা ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ’৭১ এ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে এ দেশটির জন্ম হয়েছিল বলেই আমরা একেকজন আজ বিভিন্ন উচ্চতর পদে আসীন হতে পেরেছি। বিচারকরাও এর ব্যতিক্রম নন। তাই পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের উন্নয়ন পরিপন্থী কর্মকান্ডের সমর্থন তো দূরের কথা, এরূপ চিন্তারও যাতে উদ্রেক না হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বিচার বিভাগের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের প্রশিক্ষণের অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সাথে ও নিবিড়ভাবে আত্বস্থ করার এবং রিসোর্স পার্সনদের সাথে Interaction এর মাধ্যমে যাবতীয় আইনগত সমস্যার সমাধান খুঁজে নেওয়ার আহবান জানান তিনি ।

HostGator Web Hosting