| |

সর্বশেষঃ

জামালপুরে তুলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা

আপডেটঃ ১:৫৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২১, ২০১৯

জামালপুর সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : জামালপুর জেলার বিস্তীর্ণ চরভূমিতে এবার ব্যাপক তুলা চাষ হয়েছে। এজন্য পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চলের কৃষকের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এক সময়ের প্রায় অনাবাদি এবং পতিত জমিতে তুলা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। এখানকার কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ। কৃষকদের এখন ব্যস্ত সময় কাটছে ক্ষেত থেকে তুলা সংগ্রহের কাজে।

জামালপুর জেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, জামালপুর সদর উপজেলার মধ্য পাথালিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ পাথালিয়া, চন্দ্রা, পিয়ারপুর, সেনের চর, বানারের পাড় এলাকা এবং ইসলামপুর উপজেলার পিরিজপুর, ডেফলার চর ও শভুপুর এলাকায় এবার ব্যাপক তুলার চাষ হয়েছে।

শুভ্র তুলায় ভরে উঠেছে চরের ক্ষেতগুলো। কৃষকদের এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটছে তুলা ওঠানোর কাজে। যমুনা ও ব্র‏হ্মপুত্র নদের চরের শুষ্ক ভূমিতে ধান ফলানো কঠিন। আখ, পাট, সরিষা, কলাই ও অন্য ফসল করেও খুব একটা লাভের মুখ দেখা যায় না। এজন্য গত কয়েক বছর যাবৎ চরাঞ্চলে ক্রমশ বাড়ছে তুলার চাষ। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজার ভালো থাকায় খুশি কৃষকরা।

জামালপুর সদরের মধ্য পাথালিয়া এলাকার তুলা চাষি সোলায়মান হাকিম, ইব্রাহিম সরকার, খলিলুর রহমান খলিল, মফিজ সরকার এবং রুবেল মিয়া জানান, তুলা চাষ করতে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের গড়ে খরচ হয় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর জাতভেদে বিঘাপ্রতি তুলার ফলন পাওয়া যায় ৮ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত।

তুলা চাষি সোলায়মান হাকিমের প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা আর তিনি তুলা বিক্রি করতে পারবেন প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা। গত বছরও তিনি ৭ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ করেছেন। একই এলাকার কৃষক আবদুল মজিদ জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে তুলা আবাদ করতে তার খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। তিনি ৩০ হাজার টাকার তুলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

জামালপুর জেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘এবার বীজতুলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭৫০ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। গত বছর বীজতুলার উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৬৫০ মেট্রিক টন। এবার আশতুলা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ বেল। গত বছর আশতুলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৩০ বেল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার তুলার ফলন ভালো হয়েছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকরা এবার লাভবান হবে। কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে দেওয়া হচ্ছে সব ধরনের সহায়তা।’

এবার জেলার ২২৫ হেক্টর জমিতে সিবি ১২, সিবি ১৪, সিবি হাইব্রিড-১, রুপালি-১ ও ডিএম-৩ জাতের তুলার চাষ হয়েছে। এ বছর তুলা উন্নয়ন বোর্ড প্রতি মণ তুলার দাম নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

জামালপুর জেলায় অনাবাদি খাস জমি রয়েছে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি। এসব চরের অনাবাদি জমিতে তুলা চাষ করা গেলে শুধু কৃষকই লাভবান হবেন না, তুলা আমদানিতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থেরও সাশ্রয় হবে।

HostGator Web Hosting