| |

সর্বশেষঃ

ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত

আপডেটঃ ৮:৪১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছুটির দিনে জমজমাট ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। স্টল আর প্যাভিলিয়ন গুলোতে ক্রেতা–দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণ পেয়েছে মেলা। বিকাল থেকেই মেলায় আসতে থাকেন ক্রেতা–দর্শনার্থীরা। রাত সাড়ে সাতটায় মেলা প্রাঙ্গন জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

শুক্রবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, শুধু যে ভিড় তা নয়, পণ্যও বিক্রি হয়েছে বেশ। এ জন্য খুশি বিক্রেতারাও।

ক্রেতাদের হাতে হাতে ব্যাগ। কেউ কিনেছেন কাপড়, কারুপণ্য, কেউ বা আবার বিস্কুট; কারো হাতে ক্রোকারিজ সামগ্রী, কেউ কিনেছে ওয়াশিং মেশিন, টিভি ইত্যাদি।

মেলায় গহনা, কাপড়ের স্টল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। আর ক্রেতা দর্শনার্থীদের কাছে টানতে বিভিন্ন স্টল ‘ফ্রি’ আর পণ্যমূল্যে ছাড়ের ছড়াছড়ি।

কথা হলে এ প্রতিবেদককে স্টলের মালিকরা বলেন, ছুটির দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা। তারা বলেন, আজ সপ্তাহিক ছুটি থাকায় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড় বেশি। বিক্রিও বেশ ভালই হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী শেখ জাহিদুজ্জামান স্বস্ত্রীক মেলায় এসেছেন। বলেন, মেলা থেকে কিছু গৃহস্থসামগ্রি কিনবো। মেলায় অনেক ছাড় রয়েছে। আমার স্ত্রীর জন্য কিছু প্রসাধনী আর বাসার জন্য একটি সোফাসেট কিনবো। এ জন্য রিগ্যাল ফার্নিচারে ঢুকেন তারা।

ধানমন্ডি থেকে মেলায় আসা মনির নামের নামের একজন কিনেছেন কাপড় ধোয়ার (ওয়াশিং মেশিন)। ঢাকাটাইমসেকে এই চাকরিজীবী তিনি বলেন, ‘শীতে কাপড় ধোয়া কষ্টের। তাই বাসার জন্য ওয়াশিং মেশিন কিনলাম।’

ওয়ালটন প্যাভিলনে দেখা গেছে ভিড়ের জন্য সেখানে ঢোকাই দায়। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। মেলা উপলক্ষে ওয়ালটন প্যাভিলিয়নে মোবাইল ফোনের ওপর সর্বোনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ ছাড়। এছাড়া দেশব্যাপী ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৪ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওয়ালটন। এর আওতায় ওয়ালটন পণ্য কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই ক্রেতারা পাবেন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। পেতে পারেন কোটি টাকার ক্যাশ ভাউচারসহ মোটরসাইকেল, এয়ারকন্ডিশনার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, এলইডি টিভি, ওভেনসহ অসংখ্য পণ্য ফ্রি।

পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন মিরাজ। হোম টেক্স প্যাভিলিয়নে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, হোম টেক্স বেডসিটের জন্য নাম করা। বাসার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মেলায় আসা।

এদিকে মেয়েদের প্রসাধনী সামগ্রীর স্টলগুলোতে ভিড় লেগেই আছে। হাইড ইন্টারন্যাশনালের স্টলটিতে কথা হয় নাহারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভালো প্রসাধনী নিতে চাইলে দাম বেশি দিয়ে কিনতে হবে। তবে হাইড ইন্টারন্যাশনালে মেয়েদের প্রসাধনীতে অফার রয়েছে। আর এই স্টলটিতে মেয়েদের সব ধরনের প্রসাধনী মিলছে। ফলে এক ছাদের নিচে যখন সব মিলছে তখন ঘোরাঘুরির কষ্টটা কমেই গেছে।

স্কয়ার ইলেকট্রনিক্স প্যাভিলিয়নেও চলছে অফার। প্যাভিলিয়নের সেলস ম্যানেজার মামুন বলেন, আজ কেনাবেঁচা অনেক ভালো। আমরা চাই মেলা শেষ পরযন্ত এভাবে কেনাবেঁচা হোক।

মেলায় রিগ্যাল ফার্নিচারে দিচ্ছে বেড়ে ১০ শতাংশ, আলমারিতে ২০ শতাংশ, ডায়নিংয়ে ১০ শতাংশ, সোফা সেটে ১৫ শতাংশ ছাড়। এছাড়া সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকার পণ্য কিনলেই প্রতিদিনের র‌্যাফেল ড্রতে অংশ নিতে পারবেন ক্রেতারা।

মেলায় দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ পরিদর্শক সুজানুর ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, মেলায় কোনো অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে নি। নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা পুরো মেলা প্রঙ্গন। আমরা সর্বক্ষণিক মেলা প্রঙ্গণে আছি। কোন অবিযোগ আসলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেই আমরা।

বাণিজ্যমেলায় ভোক্তা অধিদপ্তর:-

বাণিজ্যমেলার ভিআইপি গেটের পাশে ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিস । এখানে এসে ভোক্তারা সরাসরি অভিযোজ করতে পারেন। এছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেরের ঠিকানায়ও অভিযোগ করতে পারবেন। আর ভোক্তাদের অভিযোগ প্রমাণিত হলেই ২৫ শতাংশ জরিমানার টাকা পাবেন ভোক্তা। এ পর্যন্ত মেলায় ১০ টি অভিযোগ দিয়েছেন ভোক্তারা। এর মধ্যে দুইটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় প্রতিশ্রুত পণ্য না দেয়ার অভিযোগে রিকো মার্কেটিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা, আর নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি রাখায় রংপুর মেটাল ইন্ডাট্রিজ লিমিটেডকে নামের এক প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছে মাসব্যপী ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলা প্রতিদিন ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত মেলায় প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা, ছোটদের জন্য ২০ টাকা। তবে বিকাশ গ্রাহকদের জন্য মেলায় প্রবেশ টিকেটের দাম বিকাশে অ্যাপ্সের মাধ্যমে পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ টাকা ক্যাশব্যাক পওয়া যায়। মেলার প্রধান প্রবেশ ফটকের কাছে বিকাশের কর্মীদের দেখা গেল এ সুযোগ দিতে।

মেলায় এবার প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল রয়েছে ৪১২টি।

বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের মোট ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হলো- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

HostGator Web Hosting