| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

জয়ে বিপিএল শেষ করল সিলেট সিক্সার্স

আপডেটঃ 11:05 pm | February 01, 2019

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপিএল থেকে আগেই বিদায় নেয় সিলেট সিক্সার্স। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবর চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিতে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরকে গুডবাই জানায় সিলেট।

শুক্রবার রাতে মিরপুর শেরেবাংলায় অনুষ্ঠিত বিপিএলের ৪০তম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে সিলেট সিক্সার্স। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৩৬ রানে অলআউট চিটাগং ভাইকিংস।

২৯ রানে জয় পায় সিলেট। তবে গেরে গেলও সমস্যা নেই মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চিটাগং ভাইকিংসের। কারণ তারা আগেই বিপিএলের সুপার ফোরে খেলা নিশ্চিত করে।

থেমে গেল মুশফিকের একার লড়াই

সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ১৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে চিটাগং ভাইকিংস। এরপর একাই দলকে গর্ত থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইয়াসির আলীর সঙ্গে যোগ করেন ৪২ রান। ব্যক্তিগত ২৭ রানে অলক কাপালির বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে জেসন রয়ের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ইয়াসির আলী।

এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ফের ৩৫ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। ১৫ বলে ২৫ রান করে এবাদত হোসেনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক। ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৮ রানে ফেরেন চিটাগংয়ের জিম্বাবুয়ান অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা।

৯৬ রানে ৫ ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর চিটাগংয়ের একমাত্র ভরসা ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তার ব্যাটে ভর করেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিল চটতলার দলটি। জয়ের জন্য শেষ দিকে ৩০ বলে চিটাগংয়ের প্রয়োজন ৫৭ রান।

১৬তম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। ৩২ বলে তিন চার ও সমান ছক্কায় ৪৮ রান করে ফেরেন মুশফিক। তার বিদায়ের পর মাত্র ৫ রান করে ফেরেন দাসুন শানাকা। ১২৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে চিটাগং।

আবারও ইনজুরিতে তাসকিন

আবারও ইনজুরিতে তাসকিন আহমেদ। বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ পা মচকে যায় সিলেট সিক্সার্সের এই পেসারের। তার চোট কতোটা গুরুততর তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি। তবে চোট গুরুততর হলে নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে বাদ পড়ে যেতে পারেন দেশের অন্যতম সেরা এই পেসার।

চিটাগং ভাইকিংসের ইনিংসের ১০ম ওভারে চোটা পান তাসকিন। অলক কাপালির বলে অং অফে ছক্কা হাঁকান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। উড়ে আসা বলটিকে তালুবন্দি করতে দ্রুত দৌড়াতে গিয়ে বাউন্ডারির ঠিক কাছে এসে পা মচকে যায় তাসকিনের। পায়ে প্রচন্ড ব্যথা পাওয়ায় মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর সতীর্থদের কাঁধে ভর করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তাসকিন।

শূন্য রানে আউট আশরাফুল

নয় ম্যাচ পর একাদশে ফিরেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মোহাম্মদ আশরাফুল। রানের খাতা খোলার আগেই তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ তুলে দেন আশরাফুল। তার বিদায়ের পর দুই রানের ব্যবধানে ফেরেন অন্য ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্ট।

সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ১৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় চিটাগং ভাইকিংস।

সিলেটের সংগ্রহ ১৬৫/৫ রান

আন্দ্রে ফ্লেচারের ফিফটিতে ভর করে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেছে সিলেট সিক্সার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন সিক্সার্সের ক্যারিবীয় ওপেনার ফ্লেচার। এছাড়া ৩৪ ও ৩২ রান করেন মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাব্বির রহমান রুম্মন। চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে হারদাস ভিলজোয়েন নেন ৪ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান ষষ্ঠ আসরের ৪০তম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে সিলেট সিক্সার্স। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ভিলজোয়েনের গতির মুখে পড়ে ৩৭ রানে দুই উইকেট হারায় সিলেট।

এরপর সাব্বির রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন ওপেনার ফ্লেচার। ২৫ বলে দুই চার ও সমান ছক্কায় ৩২ রান করতেই নাইম হাসানের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির রহমান।

চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ নওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে ফের ৫১ রানের জুটি গড়েন ফ্লেচার। ১৯ বলে তিনটি ছক্কা এবং দুটি চারের সাহায্যে ৩৪ রান করতেই ভিলজোয়েনের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন নওয়াজ। দুর্দান্ত খেলতে থাকা আন্দ্রে ফ্লেচারকেও নিজের শেষ ওভারে ফেরান ভিলজোয়েন। তার আগে ৫৩ বলে ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৬৬ রান করেন ফ্লেচার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৬৫/৫ (ফ্লেচার ৬৬, নওয়াজ ৩৪, সাব্বির ৩২; ভিলজোয়েন ৪/২৯)।

চিটাগং ভাইকিংস: ১৮.৩ ওভারে ১৩৬/১০ (মুশফিক ৪৮, ইয়াসির ২৭, মোসাদ্দেক ২৫; এবাদত ৪/১৭)।

ফল: সিলেট সিক্সার্স ২৯ রানে জয়ী।

HostGator Web Hosting