| |

সর্বশেষঃ

বইমেলায় তারুণ্যের জোয়ার

আপডেটঃ ৬:২২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে ভিড়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আবেদন। সর্বস্তরের বইপ্রেমীদের উপস্থিতি প্রাণবন্ত করেছে মেলাপ্রাঙ্গণ। বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের উপস্থিতি তৈরি করেছে আলাদা আবেদন। মেলার গেট খোলার সাথে সাথেই দল বেঁধে মেলায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের। বইয়ের স্টল-প্যাভিলিয়নগুলোতে দায়িত্ব পালন করা বিক্রয়কর্মীসহ প্রকাশকরাও বলছেন, এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত তরুণদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর তরুণরা বলছেন, শুধু এ বছর নয়, পূর্বের সব বইমেলাগুলোতেও তরুণরাই বেশি উপস্থিত ছিলো।

 

বই ক্রয়ের বেলাতেও তরুণরাই এগিয়ে থাকে।গতকাল মঙ্গলবার মেলার পঞ্চম দিন মেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের গেটে লম্বা লাইন দেখা যায়। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ হওয়ায় লাইনও ছিলোআলাদা। আর পৃথক লাইনগুলোতে তরুণরাই ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠ।নির্ধারিত সময় বিকাল ৩টায় গেট খোলার কিছুটা পূর্বে কথা হয় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নাজনীন সুমীর সাথে। তিনি বলেন, ‘তিনটি বই কিনবো বলে স্থির করে এসেছি। সময়ও বেশি নেই। তাই নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই চলে এসেছি। মেলায় ঘুরে ঘুরে সেলফি তোলার খুব ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু আজ সময় কম। তবে শুক্রবার অথবা শনিবার সময় নিয়ে বন্ধুরা দল বেঁধে আসবো।’গেটে দায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য বলেন, মেলার শুরু থেকেই এবার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের ভিড় বেশি। তবে সব বয়সিরাই মেলায় আসছেন বলে জানান তিনি। দেশের স্বনামধন্য লেখক ছাড়াও নতুন-পুরাতন লেখকের বই ক্রয়ে তরুণদের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান প্রকাশকরা। বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই তরুণদের বেশি পছন্দ।

 

তবে এ ক্ষেত্রে বিশিষ্ট লেখকদের বই-ই বেশি পছন্দ। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, আনিসুল হকসহ প্রতিষ্ঠিত লেখকদের জনপ্রিয় বইগুলোর প্রতি তরুণদের ঝোঁক বেশি।মেলার অন্য প্রকাশ, অন্বেষা, অনুপম, অনন্যা, প্রথমা, মাওলা ব্রাদার্স, সময়, আজকাল প্রকাশনীসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টল-প্যাভিলিয়নে তরুণদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ বই দেখছেন, কেউ ক্যাটালগ সংগ্রহ করছেন আবার পছন্দের বইটি কিনেও নিচ্ছেন কেউ কেউ। অনন্যা প্রকাশনীর সামনে কথা হয় রুবেল নামের এক তরুণের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমরা দুই বন্ধু এসেছি এক সাথে। এখন ঘুরে দেখছি। মেলা থেকে বের হওয়ার সময় কিছু বই কিনবো।’ কাউসার নামের অন্য একজন বলেন, ‘আমার পছন্দের লেখক আনিসুল হক। আমি তার বই কিনবো।’ তবে প্রিয় লেখকের সাথে একটা ছবি তিনি তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন তিনি।এদিকে প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অকপটে বলছেন তরুণ পাঠকদের উপস্থিতির কথা। পাতা প্রকাশনীর ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্টলে এখনো তেমন বিক্রি শুরু হয়নি। তবে আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুটি বই এনেছি। তরুণরা অনেকেই বই দুটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’ একই ধরনের কথা বলেন, টুম্পা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী অধরা জাহান অরিন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের আগমন এখন পর্যন্ত মেলাকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে।’ আজকাল প্রকাশনীর ম্যানেজার রাজিব দত্তও তরুণদের প্রাণবন্ত উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন।অন্বেষা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মেলার শুরুর থেকে আজ পর্যন্ত সব শ্রেণির পাঠকই আমরা পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত তরুণদের উপস্থিতি আলাদা আবেদন তৈরি করেছে।

 

’ ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের বিক্রয়কর্মী আবির বিন ধ্রুব বলেন, ‘তরুণ-তরুণীর পছন্দের তালিকায় হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবালের মতো লেখক। আমাদের প্যাভিলিয়নে হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেনের বই বেশি। তরুণরা আসছে। তবে কম।’ বাংলার প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী জান্নাতুল জেরিন বলেন, ‘আমরা কবিতার বই বেশি এনেছি। তরুণরা আসছে। তবে এখনো বিক্রি তেমন হয়নি।’ কবি নজরুল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হুসাইন নিশাদসহ একই সঙ্গে এসেছেন ১১ জন। তারা খুব আগ্রহ নিয়ে প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরে দেখছিলেন। তিনি বলেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের সাথে মিশে রয়েছে। আর সেই তাগিদ অনুভব করি বলেই বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে। ফেরার আগে বইও কিনবো।’ এদিকে গতকাল বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি সিকান্দার আবু জাফর : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি নাসির আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. শিরীণ আখতার এবং কবি বায়তুল্লাহ কাদেরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন, কবি সানাউল হক খান এবং তারিক সুজাত।

 

আবৃত্তি পরিবেশন করেন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং শাহাদাৎ হোসেন নিপু। সংগীত পরিবেশন করেন, শিল্পী মাহমুদ সেলিম, সমর বড়–য়া, আরিফ রহমান, সুরাইয়া পারভীন এবং স্বর্ণময়ী ম-ল। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), শাহরাজ চৌধুরী তপন (গীটার), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড), মোঃ মেসবাহ উদ্দিন (অক্টোপ্যাড)।

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া, আলম তালুকদার, আয়শা ঝর্না, হামীম কামরুল হক, অরবিন্দ চক্রবর্তী। নতুন বই: মেলায় পঞ্চম দিন গতকাল মঙ্গলবার নতুন বই এসেছে ১৫২টি। এরমধ্যে গল্প ২০, উপন্যাস ৩৩, প্রবন্ধ ১৫, কবিতা ৪০ গবেষণা ২, ছড়া ২, শিশু সাহিত্য ২ জীবনী ৫, মুক্তিযুদ্ধ ৭, নাটক ২, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ৩, রাজনীতি ১, অনুবাদ ১, সাইন্স ফিকশন ১ এবং অন্যান্য ১৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting