| |

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহে চাকুরীর প্রলোভনে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারকচক্রসহ মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

আপডেটঃ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

মো: রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহে চাকুরীর প্রলোভনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে প্রতারকচক্রের দুই সদস্যসদ দুই মোটর সাইকেল চোরদলের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার সামগ্রীসহ তিনটি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকরা হলো শাকিল আহম্মেদ, জোসনা মিয়া এবং মোটর সাইকেল চোরেরা হলো, উজ্জল মিয়া ও শরীফ মিয়া। তাদেরকে শুক্রবার পৃথক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, জামালপুরের শাকিল আহম্মেদের নেতৃত্বে জোসনা মিয়া, আঃ জলিল ও রাশেদ শাহরিয়া ওরফে এরশাদ কানা নিজেদের ময়মনসিংহ জেলা জজ ও সচিবালয়ের কর্মচারী দাবী করে ১১ বেকার যুবককে জেলা জজ ও সচিবালয়ে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারকচক্রের শাকিল আহম্মেদ নিজেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহের একজন কর্মচারী পরিচয় দিয়ে অপর প্রতারক সদস্যদের মাধ্যমে বেকার যুবকদের মধ্যে প্রচার করে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের কার্যালয়ে বিভিন্ন গ্রেডে কিছু সংখ্যক চাকুরী নিয়ে দিতে পারবে। প্রতারক শাকিল জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জজ ড. আমির উদ্দিন সাহেবের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ও বিশ্বাসী লোক বলে পরিচয় দেয়। এছাড়া প্রতারক আঃ জলিল বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন ক্ষমতাধর কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়।

ওসি শাহ কামাল আরো বলেন, গত ২৭ জানুয়ারী প্রতারকচক্র ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতের স্টিকার লাগানো গাড়ী, যাহার রেজিষ্ট্রেশন নং-ঢাকা-চ-১৫-৫৯৬২ যোগে প্রতারনার স্বীকার হওয়া যুবকদের ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের মেইন গেইটে নিয়ে যায়। পরে সচিবালয়ের ভবনের ২য় তলায় বারান্দায় দাঁড় করিয়ে চাকুরীর আইডি কার্ডের স্বাক্ষর নেয় এবং যুবকদের ০৭ দিনের মধ্যে চাকুরীতে যোগদানসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার আশ্বাস প্রদান করে। ঐ প্রতারকচক্রের কার্যক্রমে চাকুরীর প্রত্যাশী যুবকরা আশ্বস্থ হয়ে গত ৩০ জানুয়ারী ময়মনসিংহের জেল রোড গলগন্ডায় প্রতারকদের নিকট নগদ টাকা প্রদান করে। এছাড়াও প্রতারকচক্রের সদস্যরা চাকুরীর প্রত্যাশী যুবকদেরকে জেলা জজ আদালত, ময়মনসিংহে চাকুরী হযেছে মর্মে কোর্টের পোশাক সমৃদ্ধ ছাই রংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালত,ময়মনসিংহ লেখা হাফ হাতা শার্ট ও ফুলপ্যান্ট প্রদান করে। পরবর্তীতে চক্রটি চাকুরীর কথা বলে বিভিন্ন টালবাহানা করে ২/৩ দিন চাকুরীর প্রত্যাশী যুবকদের কৌশলে বাসায় আটক রাখলে তাদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে চাকুরী প্রত্যাশী জামালপুরের সরিষবাড়ির কায়দা আজম কৌশলে প্রতারকচক্রের ভাড়া বাসা থেকে বরে হয়ে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দকে পুরো বিষয়টি অবহিত করে। ওসি শাহ কামাল আকন্দ পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের পরামর্শে তাৎক্ষনিক এসআই মোঃ মাসুদ জামলী, এসআই আবদুল লতিফ, এএসআই ফারুক হোসাইনকে সাথে নিয়ে জেল রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিপ্রণকালে প্রতারক শাকিল আহম্মেদ ও মোঃ জোসনা মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

এ সময় তাদের ঐ ভাড়া বাসা থেকে ০৬টি ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালত লেখা ছাই কালারের হাফ হাতা শার্ট, ০৫ টি সীল। যার একেকটি হলো, ডাক্তার মোঃ জাকির মিঞা, এমবিবিএস,এফসিপিএস মেডিসিন, জেলা জজ আদালত, ময়মনসিংহ, মোঃ সিরাজুল হক ক্যাশ নাজির প্রশাসন, ময়মনসিংহ, টি শহিদুল ইসলাম অনুবেদনাধীন কর্মকর্তা জে.জ আঃ ময়ঃ ১২৩২৪৫ জঃ কাঃ জেলা জজ আদালত,ময়মনসিংহ, ডাঃ জাকির হোসেন এমবিবিএস (ঢাকা) বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপিএস, মেডিসিন এমডি (হ্যাপাটলজি) বাংলাদেশ হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট বিভাগ, ঢাকা বাংলাদেশ, মোঃ সামিউল হাসান কোর্ট ইনচার্জ অফিসার বাংলাদেশ হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোট বিভাগ ঢাকা বাংলাদেশ।

এছাড়া ছবিযুক্ত ১২টি নিয়োগপত্র, ৬টি আইডি কার্ড যাহার প্রতিটিতে ছবি সংযুক্ত ও জেলা জজ আদালত, ময়মনসিংহ লেখা রয়েছে। ০৭টি সার্ভিস বহি, যাহার প্রতিটির উপরে সার্ভিস বহি মূল্য প্রতি বই ২০ টাকা লেখা। ০১ টি হাজিরা খাতা যাহার উপরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা। ২০টি বিশেষ ফরম, ০৬টি বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন ফরম যাহার প্রতিটির উপরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মনোগ্রাম অংকিত এবং ০১টি রেজিষ্টার বহি, যাহার উপরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আইন ও বিচার বিভাগীয় মন্ত্রনালয় জেলা জজ আদালত, ময়মনসিংহ সংস্থাপন ও অস্থায়ী কর্মচারীদের রেজিষ্টার বহি লেখা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায়। জামালপুরে সরিষবাড়ির কায়দা আজম বাদি হয়ে মামলা করেন।

অপরদিকে ডিবি পুলিশের এসআই আলাউদ্দিন, এএসআই জহুরুল ইসলাম, এএসআই তোফায়েল ইসলাম গফরগাওয়ের পাগলা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাগলা থানার গোলাবাড়ী মোড়স্থ মা ফার্মেসীর সামনে থেকে চোরাই মোটর সাইকেল ক্রয়-বিক্রয় করাকালে চোর চক্রের মূলহোতা উজ্জল মিয়া ও শরীফ মিয়াকে গ্রেফতার করেন। এসময় ডিবি পুলিশ চোর চক্রের হেফাজত থেকে সুযোকি, এ্যাপাচি ও হিরো ব্রান্ডের পৃথক তিনিটি চেরোই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ মোটরসাইকেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting