| |

সর্বশেষঃ

ব্রহ্মপুত্র নদে আবার ভাসবে কার্গো-জাহাজ, খনন শুরু মার্চে দরপত্র আগামী সপ্তাহে

আপডেটঃ ৪:৪১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : এককালের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদে উজানের পলি ও বালু জমে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। তবে আশার কথা হলো-খননের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে এই নদের বুকে আবার চলাচল করবে মালবাহী ভারী নৌযান কার্গো ও ভেসেল জাহাজ।
জানা গেছে, ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দরপত্র আগামী সপ্তাহে আহ্বান করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে এর কার্যক্রম শুরু হবে চলতি বছরের মার্চে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নতির অন্যতম সোপান এই ব্রহ্মপুত্র নদটি খননে উদ্যোগী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরনো ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবার নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে চার হাজার ৩৭১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গত বছরের ২ অক্টোবর অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে তিন হাজার কোটির ওপরে টাকা ব্যয় হবে ব্রহ্মপুত্র খননে।

পাশাপাশি দুটি জাহাজ চলাচলের জন্য নদটি ৩০০-৩৫০ ফুট প্রশস্ত করা হবে এবং শুকনো মৌসুমে এই নদে কমপক্ষে ১০ ফুট গভীর পানি থাকবে। ভারতের ডুবুরি এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দৈখাওয়া নদীবন্দর থেকে প্রায় ১০ হাজার টন মালামাল পরিবহনের উপযোগী কার্গো ও ভেসেল জাহাজ মালামাল নিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ময়মনসিংহ হয়ে আশুগঞ্জ, সিলেটের জকিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন নৌবন্দরে গিয়ে পৌঁছাতে পারবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ তথ্য জানায়। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খননকাজ শেষ হলে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি বাড়বে ফসল উৎপাদন। ভাগ্য খুলবে মৎস্যজীবীদেরও। নদ ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যও ফের জমজমাট হবে। নতুন কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা হবে।

এদিকে খননের আগে নদের দুপারের হাজার হাজার একর জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. নূরুল আমিন কালাম। এ ছাড়া সঠিকভাবে খনন ও খনন করা বালুর সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপত্র আহ্বানের পর ২৮ দিনের মধ্যেই কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে উজানে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র খননের কাজ শুরু হবে। ছয় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ২৮টি প্যাকেজে আহ্বান করা হবে দরপত্র।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চের শেষে ব্রহ্মপুত্রের খনন কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য আগামী সপ্তাহে দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রকল্পের কার্যক্রম অগ্রগতি নিয়ে তিনি জানান, এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই নিয়মমতো ভৈরব থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে বাকি অংশের জরিপ কাজ সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় নাব্যতা সংকটের মুখে থাকা এই নদের হারানো যৌবন ফিরিয়ে এনে আবারও জাহাজ ও কার্গো চলাচল করতে পারবে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে লোকালয় বা বাজারে গড়ে ওঠবে ১৪টি ঘাট। পাশাপাশি দুটি জাহাজ চলাচলের জন্য নদটি ৩০০-৩৫০ ফুট প্রশস্ত ও ১০ ফুট গভীর করা হবে। নদটির ৮ কোটি ঘনমিটার অংশ ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। খননের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে বিআইডব্লিউটিএ।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম বলেন, যারা ক্যাপিটাল ড্রেজিং করবে তারা পরবর্তী তিন বছর নদের সংরক্ষণও করবে। ব্রহ্মপুত্র খনন করা হলে যমুনা থেকে প্রচুর পরিমাণ পানির সঙ্গে বালু আসবে। এ কারণে নৌপথটি সারাবছর সংরক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। এই অবস্থার জন্য জামালপুরে একটি ড্রেজার বেজ গড়ে তোলার পাশাপাশি ময়মনসিংহেও ড্রেজিং অফিস করা হবে বলে জানান তিনি।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting