| |

সর্বশেষঃ

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ৭ বছর, তদন্তে অগ্রগতি নেই

আপডেটঃ ১:০৭ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় ৭ বছর পেরিয়ে গেলও তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। শেষ হয়নি এ মামলার তদন্তের কাজ।

২০১২ সালের এই দিনে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনিকে। ঘটনার পর পরই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন।

কিন্তু সেই ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে ৭ বছর এসে ঠেকেছে। কিন্তু এখনো কী কারণে, কারা খুন করেছে এ তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত শেষে কবে নাগাদ অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মো. শহিদার রহমান। তদন্তের প্রয়োজনে যে সব পরীক্ষা করা হয়েছে, তার সবগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার কথা জানালেও এতে কী মিলেছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না তিনি।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় যে আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, তার মধ্যে দুজন জামিনে বেরিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি ৮ জন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের মধ্যে কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় ঘটনাস্থলে ‘অজ্ঞাত’ দুই পুরুষ ঘাতকের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের নাম-ঠিকানা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যাচ্ছে না। সাগর-রুনি দম্পতির স্বজনসহ সন্দেহভাজনের ডিএনএন নমুনা র‌্যাবের হাতে এলেও ঘাতকদের শনাক্ত করা যায়নি। তাদের বাসা থেকে খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চালু হলে খুনিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

এদিকে দীর্ঘদিনেও সাংবাদিক দম্পতি খুনের ঘটনায় তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব বলে নিহতদের পরিবারের দাবি।

সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করে ঘটনাস্থলে দুই জন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। ওই দুই অজ্ঞাত আসামিকে শনাক্ত করতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া অন্যান্য অগ্রগতি প্রতিবেদনের মতো এবারের প্রতিবেদনেও বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কি না-এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ল্যাপটপ ব্যবহৃত হচ্ছে কি না-সে ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চুরি করা ল্যাপটপ কখনও ব্যবহার করা হলে তার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মামলার ভিকটিম মিডিয়া কর্মী হওয়ায় তদন্তকালে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিভিন্ন আলাম পরীক্ষা, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত, বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ, সমসাময়িক অন্যান্য হত্যাকান্ডে ঘটনা বিশ্লেষণ, ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী থানাসমূহে একই অপরাধ প্রক্রিয়ায় সংগঠিত অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রিল কাটা অপরাধে চোর-ডাকাতদের বিষয়েও নিবীড়ভাবে তদন্ত অব্যাহত আছে।’

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting