| |

সর্বশেষঃ

নানা সমস্যায় জর্জরিত পূর্বধলার জুগলী সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়

আপডেটঃ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৪, ২০১৯

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : জরাজীর্ণ টিনশেড ভবন, ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাস রুম, খেলার মাঠ ও অবকাঠামো সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জুগলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়টিতে নেই টিউবওয়েল, টয়লেট-বাথরুম, নেই শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত আসবাব হাই ও লো বেঞ্চ । পড়ালেখা করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতায় ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের।

বুধবার (১৩মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, স্কুলের পুরো টিনশেড ভবনের জীর্ণদশা। চালা ফুটো হয়ে গেছে। চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চগুলোর নাজুক অবস্থা। দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। তবে জরাজীর্ণ এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল শতভাগ, মিড ডে মিল ছিল শত ভাগ ও শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসও ছিল শতভাগ। কিন্তু ভাঙ্গা বেঞ্চে ও মাটিতে বসেই পড়া-লেখা করছে শিক্ষার্থীরা।

এ বিদ্যালয়টি প্রায় দুই যুগ ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অবদান রাখলেও বর্তমানে অনেক কষ্ট করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান করতে হচ্ছে। এসব সমস্যা ও সংকটের কারণে স্কুলের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ১৯৯২ সালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের জুগলী গ্রামে এ বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ওয়ার পর গত ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়।

শুরু থেকেই শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ভালোমানের পড়ালেখা হয়ে আসছে এ বিদ্যালয়ে। কিন্তু বছর তিনেক আগে ঘূর্ণী ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটি ভেঙ্গে গেলে আবারও জোড়াতালী দিয়ে মেরামত করা হয়। এই জরাজীর্ণ ভবনেই রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেক কষ্ট করে প্রায় ২শ’ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলে ফুটো চাল দিয়ে পানি ঢুকে বই খাতা ভিজে যায়। গরমে ক্লাস করা দুষ্কর। টিউবওয়েল ও পাকা টয়লেট না থাকায় আশপাশের বাড়ি ঘরে যেতে হয়। এদিকে বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ, যেটুকু রয়েছে তাও গর্ত।

অভিভাবকরা জানান, স্কুলটি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। ভালো পড়ালেখা হওয়াতে বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু নানা সমস্যা থাকায় একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষকরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। তাই তারা বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাব উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবুও আমরা চারজন শিক্ষক বহু কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছি। এই নাজুক অবস্থায়ও প্রাথমিক সমাপণী পরিক্ষায় শতভাগ পাশসহ জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্বের দাবীদার এ বিদ্যালয়টি।

তিনি আরো বলেন, এখন শিক্ষক শিক্ষিকারা সরকারি সকল বেতন-ভাতা পেলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদী করে বিদ্যালয়ে থাকে। সরকার আমাদের বেতন-ভাতা দিয়ে কৃতার্থ করেছেন। এখন শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা মাথায় রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা দরকার।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার রিমু আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংস্কারবিহীন স্কুলগুলোকে মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। আশা করা যায় চাহিদা অনুসারে পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

আরোও পড়ুন...

HostGator Web Hosting