| |

সর্বশেষঃ

সব হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটঃ ২:৩৯ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৪, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের সব হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ মহড়া ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেকটর ও হোস্ট পাইপসহ উন্নত ব্যবস্থা থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। সর্বশেষ এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। কেউ বিনা চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বাড়ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বছরে দেড় লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। মারা যায় এক লাখ। বর্তমানে ১৮ লাখ ক্যান্সার রোগী আছে। আর কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় কোটির বেশি।

তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। তারা বেয়াম করছে না। এতে তাদের ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল মেশানো হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। আর বায়ু দূষণের বিয়টিও রয়েছে। ইটভাটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দূষিত বায়ু ও ওয়াটার পলুশনও এর জন্য দায়ী।

দৈনিক ১০ লাখের বেশি মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দৈনিক ১০ লাখের বেশি লোক সেবা নিয়ে থাকে। নতুন নতুন হাসপাতালগুলোও রোগীদের সেবা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের দেশে আর ওষুধের অভাব হবে না। বিভিন্ন ওষুধ বাংলাদেশে তৈরি হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্য স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সময় শুধু যেসব ওষুধ থাকবে না, সেগুলো বাইরে থেকে কেনা হয়। কিন্তু সরকারি স্টকে থাকলে বিনামূল্যেই দেয়া হয়। বাইরের হাসপাতালে আইসিইউতে প্রতিদিন ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়, কিন্তু সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ফ্রি। সারাদেশে সরকার ৫০ ভাগ স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকে। বাকি সেবা দেয় প্রাইভেট হাসপাতাল। তবে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক বেশি চার্জ করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সারাদেশে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। মা-শিশু ও বৃদ্ধরা যারা জেলা হাসপাতালে যেতে পারে না, তারা এখানে সেবা পাচ্ছে। আমরা সরকারের পক্ষে থেকে ৩০টি ওষুধ বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। পরিবার পরিকল্পনার জন্যও কিছু ওষুধ দেয়া হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের জন্য। তারা যাতে ভালো সেবা পায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে একটি ডেলিভারি রুম, টয়লেট, বিশ্রাম ও কাউন্সিলিংয়ের রুম করা হয়েছে। আর সে সেবা নিশ্চিত করার জন্য ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, আগামী মাসে নিয়োগ সম্পন্ন হবে।

সারাদেশে প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের জন্য ডেস্ক খোলার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা উপজেলা হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এখন বাইপাস সার্জারি দেশেই হচ্ছে। যার জন্য আগে অন্য দেশে যেতে হতো। আমাদের ওধুষ প্রশাসন ভালো কাজ করে। তারা মান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ভালো মেডিসিন তৈরি না করলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। যে সকল ফ্যাক্টরি নিয়ম মানবে না, মেশিনারিজ নেই, জনবল নেই তাদের বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য স‌চিব আসাদুল ইসলাম, অ‌তি‌রিক্ত স‌চিব হা‌বিবুর রহমান, বাবলু কুমার সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

HostGator Web Hosting