| |

সর্বশেষঃ

মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুপ্রেরণার উৎস খুঁজবে বাঙালি

আপডেটঃ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলছে বাংলা পঞ্জিকার শেষ মাস চৈত্র। বাজছে নতুন বঙ্গাব্দের আগমনী বার্তা। জীর্ণতা আর পুরানো সব গ্লানি মুছে বৈশাখ বাঙালির জীবনে নিয়ে আসছে নতুন দিনের নতুন বছরের এক অনন্য আনন্দ উৎসব।

বাঙালির বর্ষবরণের একটি প্রধান কর্মযজ্ঞ মঙ্গল শোভাযাত্রা। যেখানে নানা প্রতীক, চিত্র আর মুখোশের মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করা হয়; প্রার্থনা করা হয় সত্য, সুন্দর এবং মঙ্গলের জন্য। ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি।

গত ১৯ মার্চ বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির কাজের উদ্বোধন করেন। আর শোভাযাত্রার এবারের কাজের দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলার ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আর বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে চারুকলা প্রাঙ্গণে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, এবার পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থের ৪৮ নম্বর কবিতার একটি লাইন- ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। বর্তমানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তারপরও আমরা নানা ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। সে জন্যই এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুপ্রেরণার উৎস সন্ধান করা হবে। যে কারণে এই বছর পাখির মোটিভগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বছর একটা সমস্যা রয়েছে যে, আমাদের দুই পাশের রাস্তা বন্ধ। মেট্রোরেলের কাজ চলছে। সে কারণেই এবার শোভাযাত্রার প্রদক্ষিণের পথটা ছোট হয়ে গেছে। তাই শাহবাগ মোড় থেকেই আমাদের ঘুরে আসতে হবে। পাখির মোটিভ ছাড়াও প্রতি বছরের মতো অন্যান্য মোটিভগুলোও থাকবে শোভাযাত্রায়, তার সবগুলো নিয়ে হয়তো এ বছর মুভ করা যাবে না। তাই কিছু মোটিভ রাস্তায় দাঁড় করে রাখা হবে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার সমন্বয়কদের একজন তন্ময় দেবনাথ। তিনি জানান, এ বছর শোভাযাত্রায় ১০টির মতো শিল্প কাঠামো থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ঘোড়া, পাখি ও উল্টা কলসি। সবচেয়ে আর্কষণীয় কাঠামো হিসেবে থাকছে বাঘ ও বক। রূপকথার ওপর ভিত্তি করে এ শিল্প কাঠামোটি তৈরি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জয়নুল গ্যালারির দক্ষিণ পাশে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে চলছে শোভাযাত্রার প্রতিকৃতি তৈরির কাজ। সেখানে পাখির শিল্পকর্মের পাশাপাশি বানানো হচ্ছে বাঘ, বক, ঘোড়া, উল্টা কলসি, পেঁচা, কাঠঠোকরাসহ বিভিন্ন প্রতিকৃতি।

এদিকে শোভাযাত্রার তহবিলের জন্য বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে চারুকলা অনুষদে। এখানে বিভিন্ন শিল্পীদের আঁকা ছবি বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া মাটির তৈরি সরা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, রাজা-রানির মুখোশ (ম্যাশ) বড়টা (জোড়া) ৩০ হাজার, ছোট ১৫ হাজার, কাগজের মুখোশ ৫০০-১ হাজার টাকা, মঙ্গল প্রদীপ ১ হাজার ৫০০ টাকা, পাখি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, লকেট ১০০-১৫০ টাকা, মাটির তৈরি সূর্য ১৫ হাজার টাকায়।

এ বিষয়ে শোভাযাত্রার আরেক সমন্বয়ক চারুকলার শিক্ষার্থী আদিল হাসনাত বলেন, বর্ষবরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এক লাখ টাকার মতো দেওয়া হয়। বাকি তহবিল গঠন করা হয় শিক্ষার্থীদের তৈরি শিল্পকর্ম বিক্রি করেই। এছাড়া বর্ষবরণের এক সপ্তাহ আগে চারুকলায় অনুষ্ঠিত হবে আর্টক্যাম্প। সেখানে বরেণ্য শিল্পীরা ছবি আঁকবেন। সেসব শিল্পকর্ম বিক্রি করেও তহবিল গঠন করা হবে।

উল্লেখ্য, আসছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন সকাল সাড়ে ৯টায় বিভিন্ন লোকজ শিল্প কাঠামো নিয়ে এ শোভাযাত্রা চারুকলার সামনে থেকে বের হয়ে শাহবাগ মোড় হয়ে আবার চারুকলার সামনে এসে শেষ হবে।

HostGator Web Hosting