| |

সর্বশেষঃ

চলছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আপডেটঃ ৫:০১ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাঙালির জীবনে পহেলা বৈশাখে উদযাপনের অন্যতম অংশে পরিণত হয়েছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র সফল আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল (বাংলা নববর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ আয়োজন করে, যা ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

চিরন্তন মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে এই শোভাযাত্রা বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের গর্ব। এটি অসাম্প্রাদয়িক, বিশ্বজনীন ও মানব কল্যাণের প্রতীক। এটি বাঙালিদের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সাহস এবং সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা দেয়।

ঢাবি চারুকলা অনুষদ ঘুরে দেখা গেছে, মুখোশ রঙ করা, পাখি, প্রজাপতি, পুতুল ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিভিন্ন নকশার প্রতিরূপ তৈরিতে ভীষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। বর্ষবরণ উৎসব রাঙাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনটি সফল করার জন্য উৎসবমুখর পরিবেশে একসাথে কাজ করে যাচ্ছেন চারুকলা অনুষদের সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীরা।

গত ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া বড় আয়োজনের এই প্রস্তুতিতে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ প্রায় ৫০০ জন।

চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী আদিল হাসনাত বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সফল করার জন্য তারা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরাম কাজ করছেন। তিনি বলেন, তাদের প্রধান ফোকাস হচ্ছে লোকজ ঐতিহ্যকে পেইন্টিং, রেপ্লিকা ও মুখোশের মাধ্যমে তুলে ধরা। শোভাযাত্রার আহ্বায়ক ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার শোভাযাত্রার প্রাথমিক কাজ চলছে, মূল থিমের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।

ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য প্রস্তুতির কাজের তত্ত্বাবধান করছেন। এ বছরের প্রস্তুতিমূলক কাজ ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তত্ত্বাবধান করছেন। তাদের বিভিন্ন শিল্পকর্ম বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা শোভাযাত্রার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। কারণ তারা কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান নেয়নি।

তারা বিভিন্ন দামে তাদের চিত্রকর্ম ও পেইন্টিং বিক্রি করছেন। কিছু কিছু বিক্রি হচ্ছে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকয়, আবার পাঁচশ’ থেকে দুই হাজার টাকায়ও কিছু জিনিস বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মাটির সরা পাঁচশ’ থেকে এক হাজায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে, রাজা-রানী বড় আকারের মুখোশ ৩০ হাজার টাকায়, ছোট আকারের মুখোশ ১৫ হাজার টাকায়, কাগজের মুখোশ পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকায়, মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রদীয় দেড় হাজার টাকায়, মাটির পাখি একশ’ থেকে তিনশ’ টাকায়, লকেট একশ’ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিবছর বাংলার ক্যালেন্ডারের প্রথম দিনটি উদযাপনের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন থিম নিয়ে ঢাবি উপাচার্যের নেতৃত্বে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হয়। এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।

২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় বাঙালির নববর্ষের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রাকে’ বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো।

HostGator Web Hosting