| |

সর্বশেষঃ

কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা, স্বস্তি ফিরতে আরও ৩ দিন

আপডেটঃ ৮:৫২ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ৩০, ২০১৯


নিজস্ব প্রতিবেদক : সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছার পর তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি কমেছে। তবে তাপমাত্রা কমতে থাকলেও বৃষ্টি হয়ে স্বস্তি ফিরতে আরও তিনদিন লাগতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়াবিদরা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ হ্যারিকেনের ক্ষমতাসম্পন্ন ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম (তীব্র প্রবল ঘূর্ণিঝড়)’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। তখন এর কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজকে সারাদেশেই তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি কমেছে। আজকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর কাছাকাছি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ৩৭ দশমিক ২, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামীকাল সারাদেশে তাপমাত্রা আরও একটু কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর থেকে হয়তো তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আসবে।’

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘আজ ফরিদপুর, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামীকালও তা অব্যাহত থাকতে পারে।’

‘সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও গরমের অনুভূতি থাকবে। রাতের তাপমাত্রা কিন্তু এখনও বেশি’ বলেন তিনি।

সাইক্লোন থেকে যখন কিছু মেঘ এখানে আসবে তখন এখানে বৃষ্টি হবে জানিয়ে আব্দুর মান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ঠিক কোন দিন কখন এখানে আসবে সেটা এখনও বলছি না। ঘূর্ণিঝড়টিকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হবে। বুধবার (১ মে) আমরা বলবো কবে নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আসবে বা আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী এটি ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে উঠে ভূমির উপর দিয়ে বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে এসে পৌঁছতে পারে। এখন পর্যন্ত এটাই এস্টিমেশন। ঘূর্ণিঝড়টি ডান দিকে আর মোড় না নিলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার কোনো আশঙ্কা নেই।’

অপরদিকে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক নম্বর-১৮) জানানো হয়েছে, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৭৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২১৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৮৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৭০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কি. মি. যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

HostGator Web Hosting