| |

সর্বশেষঃ

হাওরে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর বোরো জমি

আপডেটঃ ২:১৫ অপরাহ্ণ | মে ০৭, ২০১৯

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের পুটকিয়া নামক জায়গায় সোমবার (৬ মে) ভোরে সিঙ্গার বিল সাবমার্জেবল প্রজেক্টের প্রায় ৬০ ফুট ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ওই এলাকার তিনটি হাওরের পাঁচ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে পানি ঢুকেছে। আরও ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মানুষ বাঁধটি মেরামত করছেন।


নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টার চিরাম ও আসমা ইউনিয়নে প্রায় ২০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ রয়েছে। ওই বাঁধের প্রায় সাত কিলোমিটার সাবমার্জেবল যা বর্ষায় ডুবে যায়। এবার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও একদিনের বৃষ্টিতে কংশ নদীর শাখা গুমাই নদীতে পানি বেড়েছে। এতে ওই বাঁধের কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু সোমবার ভোর ৫ টার দিকে পুটকিয়া নামক স্থানে প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। এতে উপজেলার ওই দুইটি ইউনিয়নের রামারবাড়ি, পুটিকা, হরিরামপুর, নৈহাটী, বাহিরকান্দা, গাবরকান্দা, উজানগাঁও, চিরামসহ প্রায় ২০টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর উঠতি বোরো ধানের জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।


স্থানীয় দেওপুর গ্রামের বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন খান রুবেল জানান, উঠতি বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এমন ঘটনা প্রতিবছরই ঘটে। কিন্তু যারা বাঁধ নির্মাণের কথা বলে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তাদের কোনও বিচার হয় না। শুধু আমাদের মতো কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।


নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সেচ মৌসুমে পানিতে সেচ দেওয়ার জন্য ওই স্থানে পাইপ বসানো হয়েছিল। ঠিকমতো কাজ না করায় বাঁধের নিচ দিয়ে পানি ঢুকে কিছুটা অংশ ভেঙে গেছে। এতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর বোরো জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে আমাদের লোকজন বাঁধটি মেরামত করছে।’
জেলা প্রশাসক মো. মঈন উল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মানুষ বাধঁটি মেরামত করছেন। অল্প সময়ের মধ্যে হাওরের পানি প্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব হবে।

HostGator Web Hosting