| |

সর্বশেষঃ

দুই মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক!

আপডেটঃ ৩:২৭ অপরাহ্ণ | মে ১৩, ২০১৯

ফুলপুর প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ফুলপুরে দুই মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। দাম কম ও শ্রমের মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষকরা চরম হতাশায় দিন পার করছেন।

জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বর্তমানে একজন শ্রমিকের দুই বেলা খাবারসহ দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে এক হাজার টাকা। ফুলপুর সদরের আমুয়াকান্দা বাজারে রোববার প্রতিমণ ধান মোটা ৫০০ ও চিকন ৫৫০ টাকা দর পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে আরও ৬০ থেকে ৭০ টাকা কম দরে ধান বিক্রি হয়ে থাকে। তাও আবার মহাজনদের ওজনে প্রতিমণ ধানে ২ থেকে ৩ কেজি করে বেশি নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকের দাবি প্রতিমণ ধান উৎপাদনে খরচই হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। এ দামে ধান বিক্রি করে প্রতিমণে লোকসান গুণতে হচ্ছে ৩০০ টাকারও বেশি। এখনও বাজারে প্রতিকেজি চাল ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাভের আশায় কৃষকরা বোরো আবাদ করে লোকসান গুণলেও লাভবান হচ্ছেন মধ্যসত্বভোগীরা।

এদিকে শ্রমের মজুরি ও মহাজনের দেনা পরিশোধ করতে কৃষকগণ কম দামেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ কিছুদিন পরেই অনেক কৃষকের দ্বিগুণেরও বেশি দামে এ ধানই কিনে নিয়ে খেতে হবে।

বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকরা ফসল কেটে দ্রুত বাড়ি আনার চেষ্টা করছেন। শ্রমের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ধান কাটার কাজ করছেন।

সিংহেশ্বর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের সেলিম মিয়া জানান, ভাইটকান্দি বাজারে শনিবার ৪০০ টাকা মণ ধরে ধান বিক্রি করেছি। এতে ফসল আবাদ করে প্রতিমণে ৪০০ টাকা করে লোকসান গেছে।

পুরাপুটিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ মিয়া ও কছিম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, ধানের বাজার মূল্য অনেক কম থাকায় আমাদের অনেক লোকসান গুণতে হচ্ছে। প্রতিমণ ধান আবাদে খরচ হচ্ছে ৮০০-৮৫০টাকা। বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪-৫শ’ টাকায়। লোকসানে ভাবছি আর বোরো আবাদ করবো না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ফুলপুর উপজেলায় ২১ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড়ে ৬-৮ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বোরো ধানের দাম কম থাকায় আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে পরে বিক্রি করে দামটা ভালো পেতে পারে।

HostGator Web Hosting