| |

সর্বশেষঃ

কী খাচ্ছে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা?

আপডেটঃ ২:২০ অপরাহ্ণ | মে ২২, ২০১৯

বাকৃবি সংবাদদাতা : বাসি-পচা খাবার, তরকারিতে নিম্ন মানের সবজি, নোংরা পরিবেশ ও খাবারে পোকা এসব বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের খাবারের বর্ণনা। ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থিত প্রায় সব খাবার হোটেলের একই অবস্থা একই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া খাবারের নির্দিষ্ট দামের তালিকাও মানছেন না হোটেল মালিকরা। এ নিয়ে প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হোটেলগুলোতে নোংরা ও খোলা পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে। খাবারের মানও নিম্নমানের। শুধু যে বেশি দামে খাবার বিক্রি করছে তা নয়, খাওয়াচ্ছে পচা-বাসি খাবার। অন্যদিকে রান্না করা খাবারের মধ্যে ইট-পাথরের টুকরা, লোহার টুকরা, মাছি, চুল, তেলাপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে অবস্থিত মদিনা, বিসমিল্লাহ্, ভাই ভাই, মিলন, সজিব, চাঁদনিসহ প্রায় প্রতিটি হোটেলের চিত্র একই রকম। প্রতিটি হোটেলের রান্না ঘরের পাশেই রয়েছে ডাস্টবিন। হোটেলে খেতে বসলেই এসব ডাস্টবিন থেকে উৎকট দুর্গন্ধ আসে। এ ধরনের নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের খাবার প্রস্তুত ও বেশি দামে বিক্রি হলেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি চোখে পড়ে না। প্রতিদিনের অবশিষ্ট খাবার ফ্রিজে রেখে পরদিন খাওয়ানো হচ্ছে। একই তেল মাসের পর মাস ব্যবহার করছে। খাবার তৈরির রান্না ঘরের পরিবেশ কেই দেখলে খেতে চাইবে না। নিম্নমানের এসব খাবার খেয়ে অপুষ্টিসহ নানা রোগে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় খাবার দোকান মালিক চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করে আসিফ রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসের হোটেলগুলোর খাবারের মান ও দাম কঠোরভাবে তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

শিক্ষার্থী আজিজুল হক অভিযোগ করেন, খাবারে নিয়মিত পোকা-মাছি থাকে। বাসি-পচা খাবার, চালের মান খুব খারাপ। আর হলের ডাইনিংগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। খাবারের মান এত নিম্নমানের যে মুখে তোলা যায় না।

তৌহিদ নামে আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, হোটেলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির অভাবে পেটের পীড়ায় অনেকেই ভুগছে। ভাত সিদ্ধ না হতেই এবং তরকারি পুরোপুরি রান্না না হতেই খাবার টেবিলে সরবরাহ করা হয়।

তাজবির নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বাকৃবির ডাইনিংয়ের খাবারের মান খুব খারাপ। মুরগি গন্ধে খাওয়া যায় না। ডিম ভুনাও পুরোটা খাওয়ার আগেই বমি আসে। ৫০ টাকার সাহহরিতে শুধু ডাল মাখা ভাত খেয়েই তৃপ্ত থাকতে হয়।

বিল্লাল ইবনে আলী বলেন, বাকৃবির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলের খাবার সমস্যা। বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া।

এ ব্যাপারে বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির বলেন, খাবারের মান এবং মূল্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একাধিকবার অভিযোগ শুনেছি। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাইরের হোটেলে খাবার খাচ্ছে। যদি হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান ভালো হতো তবে বাইরের অপুষ্টিকর বাসি-পচা খাবার বেশি মূল্যে খেতে হত না। ডাইনিংয়ে রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও প্রশাসনের নজরদারির অভাব নিম্নমানের খাবারের জন্য দায়ী। এছাড়াও ক্যাম্পাসে অবস্থিত হোটেলগুলোতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এর ফলেই এত নিম্নমানের ও বাসি-পচা খাবার বেশি দামে আমাদের খেতে হচ্ছে।

HostGator Web Hosting