| |

সর্বশেষঃ

অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর, অভিযোগ করায় স্ত্রী-ভাগ্নিকে শ্লীলতাহানি

আপডেটঃ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | মে ২৪, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতলে কর্তব্যরতদের অবহেলায় রোগী মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগ করায় রোগীর স্ত্রী ও ভাগ্নিকে শ্লীলতাহানি করেছেন চিকিৎসক ও স্টাফরা।

ওই চিকিৎসক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বজনরা চিকিৎসকসহ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে।

পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করে স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাত ৮টায় এ ঘটনায় মারা যান মুকুল আকন্দ (৫৫)। তিনি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মরহুম তালু আকন্দের ছেলে।

নিহত রোগীর স্ত্রী হাসিনা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তার স্বামী মুকুল আকন্দকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ৪ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। এ সময় রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন তারা। তবে গুরুতর অসুস্থ ওই রোগীর শ্বাসকষ্ট সমস্যা থাকায় হাসপাতালের অক্সিজেন দিয়ে হাসপাতাল থেকে ভাড়াকৃত অ্যাম্বুলেন্সে নিতে চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি ও রোগীর কোনও সমস্যা হবে না বলে জানায় হাসপাতালের স্টাফরা।

কিন্তু হাসপাতাল থেকে রোগীকে বাইরে আনার কিছুক্ষণ পরই শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এ সমস্যাজনিত কারণে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি ও তার ভাগ্নি মুক্তি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সজিবকে অভিযোগ করলে ওই চিকিৎসক তাদের উপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই চিকিৎসকের সহযোগীরা তাদের শ্লীলতাহানি করিয়ে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ পরিস্থিতি দেখে নিহতের স্বজনরা প্রতিবাদ করলে তাদের আটক করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সজিবসহ ২০/২৫ জন ইন্টার্ন শিক্ষার্থী তাদেরও মারপিট করে। হাসপাতালের এমন পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার বেশ কয়েকজন সংবাদ কর্মী মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের উপরও চড়াও হয় হাসপাতালের ইর্ন্টান শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আটককৃতদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী। দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, অবহেলার কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করার ঘটনা নিয়ে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।

HostGator Web Hosting