| |

সর্বশেষঃ

ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান

আপডেটঃ ৫:০৯ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৯

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ : দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি জামাত আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এবারের ঈদের জামাত নির্বিঘেœ শেষ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন। ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় জঙ্গীরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, এক এলাকাবাসী ও এক হামলাকারী নিহত হয়। ভয়ানক ওই জঙ্গী হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সাদা ও পোশাকে এক হাজার ২০০ পুলিশ, ১০০ র্যাব সদস্য ছাড়াও মোতায়েন থাকবে ৫ প্লাটুন বিজিবি। ৩২টি নিরাপত্তা চৌকি ছাড়াও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চারস্তরের নিরাপত্তা বলয় পার হয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে মাঠে। এছাড়া মাঠের চারপাশে বিভিন্ন গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি করা হবে। থাকবে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা। নামাজের সময় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের আকাশে নজরদারি করবে শক্তিশালী ড্রোন ক্যামেরা। জামাতে অংশ নেয়া কোনো মুসল্লি ঈদগাহে ছাতা, ব্যাগ ও মোটা জায়নামাজ নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাতিল করা হয়েছে এ জেলায় পুলিশের ছুটি।

এদিকে অন্যান্য বাহিনীর মতো র্যাবের শতাধিক সদস্য সক্রিয় থাকার পাশাপাশি এবার নিরাপত্তায় থাকছে অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল। যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমনে পোশাকি নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি থাকবে মাঠের ভেতরে বাইরে গোয়েন্দা নজরদারি। গতিবিধি পর্যবেক্ষণে মাঠের চারপাশে কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ার ছাড়াও ঈদগাহের মাঝখানে একটি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। আর এসব কিছুই করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে। সর্বশেষ শোলাকিয়া ঈগগাহ মাঠ পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপর মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে মাঠে কাতারে নামাজের জন্য দাগ কাটা হয়েছে, বানানো হয়েছে পর্যাপ্ত অজুখানা। মাঠের মিম্বরে আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সীমানা প্রাচীরে চুনকাম করাসহ মাঠ সংলগ্ন রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এবারও শোলাকিয়া মাঠ থেকে জামাত সরাসরি সম্প্রচার করবে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল। এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের আগমনের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় পৌঁছবে। আর কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ফিরতটি ট্রেনটি ভৈরব পৌছবে দুপুর ২টায়। অপর ট্রেনটি ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ইতোমধ্যে ঈদকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ, ব্যানারে সাজানো সড়ক দ্বীপ স্থাপন করা হয়েছে।

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুসারে ঈদের নামাজ শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি ও ১ মিনিট আগে ১টি শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত আরম্ভের ঘোষনা দেওয়া হয়। বৃষ্টিতে ঈদগাহের আশেপাশে কোথাও যেন পানি না জমে সে জন্য পানি নির্গমনের দিকটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বছর সকাল ১০টায় শোলাকিয়ায় ১৯২তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসউদ।

শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, মাঠের চারপাশে ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। দূরবর্তী কোনো স্থানে যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চোখে পড়ে সেক্ষেত্রে ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থান নেয়া স্নাইপাররা স্নাইপিং রাইফেল দিয়ে ব্যবস্থা নেবে। সবচেয়ে খারাপ ইনসিডেন্ট হতে পারে এমন ধারণা মাথায় নিয়েই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি মনে করছেন না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ শোলাকিয়ার মাঠের প্রস্তুতি সরেজমিন দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মুসল্লিরা নিরাপদে ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়ে আবারও নিরাপদে যাতে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বহিরাগতদের নজরদারি করার জন্য মাঠের আশপাশের বাসাবাড়িতে পুলিশি তল্লাশি করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন সড়ক ও মাঠের প্রবেশপথে থাকবে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থা। আর নিরাপত্তার স্বার্থে শোলাকিয়া মাঠে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না মুসল্লিরা।

ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী অন্যান্য বারের মতো এবারের ঈদ জামাতও উৎসবমুখর হবে জানিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই ঈদ জামাতে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ভয়কে জয় করে এবারও শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লি অংশ নিবেন-এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শোলাকিয়া পরিচিত করেছে কিশোরগঞ্জকে, পরিচিত করেছে সারা দেশকে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।

HostGator Web Hosting