| |

সর্বশেষঃ

টার্মিনালে রাজধানী ফেরা মানুষের ভিড়

আপডেটঃ ৪:০৯ অপরাহ্ণ | জুন ১১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : মেগা সিটি ঢাকা। জীবিকার তাগিদেই এ শহরে বাস করেন কোটি মানুষ। ঈদের ছুটিতে নগরবাসী শেকড়ের টানে বাড়ি যাওয়ায় এ শহর প্রাণ হারিয়েছিলো। কিন্তু ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে এখনো ফিরছেন অনেকে। ফলে ঢাকা শহর ফিরে পাচ্ছে তার পুরনো চেহারা।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর রেল, বাস, লঞ্চ টার্মিনালে নগরে ফেরা মানুষের ভিড় দেখা গেলো। তবে ফেরার বেলায়ও বাস ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩ জুন (সোমবার) একদিনের ছুটি নিয়ে গত ৩০ মে থেকেই অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। ৯ জুন (রোববার) অফিস খোলায় অনেকে ৮ জুন (শনিবার) ঢাকায় ফিরতে শুরু করেন। তবে অনেকে অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ায় মঙ্গলবারও ফিরছেন রাজধানীতে। এছাড়া পরিবারের যারা চাকরিজীবী নন, তারা এখন ধীরে ধীরে রাজধানীতে ফিরছেন।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন লঞ্চ। নৌপথে সদরঘাটে এসেই লঞ্চগুলো ভিড়ে। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর প্রধান লঞ্চ টার্মিনাল সদরঘাটে যাত্রীদের বেশ চাপ দেখা গেলো। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, চরফ্যাশন, হুলারহাট, ভাণ্ডারিয়া, লালমোহনসহ দেশের বিভিন্ন রুটের যাত্রী নিয়ে টার্মিনালে আসে লঞ্চগুলো। এছাড়াও ঢাকা থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় চাঁদপুরসহ মেঘনার আশপাশের উপজেলাগুলো থেকে সারাদিনই লঞ্চ এসে ঘাটে ভিড়ে।

পরিবার পরিজন নিয়ে শেকড়ের টান ফেলে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী এসব মানুষ। লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী না থাকলেও সবগুলো লঞ্চের আসন কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো। ছিনতাই ও অপরাধ ঠেকাতে সদরঘাটে নৌ পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।

বরগুনা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা ইনামুল। তিনি বলেন, অতিরিক্ত তিনদিন ছুটি নিয়েছি। তাই মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরলাম। আগামীকাল থেকে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেবো। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে তেমন দুর্ভোগ না হলেও বাড়তি ভাড়া রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

এদিকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ট্রেনে করেও রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। মঙ্গলবার সারাদিন ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকায় আসবে। এসব ট্রেনে করে ঈদে বাড়ি যাওয়া লোকজনই আসছেন। ঢাকায় ফেরা লোকজনের নিরাপদভাবে ঘরে ফিরতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে তৎপর রয়েছেন।

জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী নীলসাগর, রংপুর ও সুন্দরবনসহ কয়েকটি ট্রেন ঘণ্টা দেড় ঘণ্টা দেরিতে ঢাকায় পৌঁছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকায় আগত ট্রেন কিছুটা বিলম্ব করছে।

অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের যাত্রী উম্মে সানজিদা জিনিয়া বলেন, আমরা ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই ঢাকায় আসতে পেরেছি। আধ ঘণ্টা দেরি হয়েছে। মোটামুটি সময়মতো পৌঁছাতে পেরেছি।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় যে চাপটা থাকে, ফেরার বেলায় তা নেই। এবার আমরা যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখনো অনেক লোক ঢাকায় ফিরছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাজধানীর প্রধান তিন বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীতে ভোরেই দূরপাল্লার বাসে আসেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। গ্রিন লাইন, হানিফ, ইউনিক, শ্যামলী ও এনাসহ দূরপাল্লা থেকে আসা সব বাসেই কোনো আসন ফাঁকা ছিলো না। এছাড়া ভারতে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরাও এসেছেন গ্রিন লাইন ও শ্যামলীর বাসে করে।

তবে বিভিন্ন রুটের এসব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। সায়েদাবাদে নোয়াখালী থেকে আসা যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে। নোয়াখালীর ভাড়া ননএসি ৩০০ টাকা হলেও প্রতিটি বাসই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা আদায় করছে।

রংপুর থেকে আসা যাত্রী সায়মন বলেন, ননএসি ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও ক্ষেত্র বিশেষ ৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ইচ্ছে হলে যান, না হয় এতো ঝামেলা করবেন না।

HostGator Web Hosting