| |

সর্বশেষঃ

হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আপডেটঃ ৩:৩২ অপরাহ্ণ | জুন ১৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিনাজপুরের হিলিতে পরীক্ষামূলকভাবে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষ করে সাড়া তৈরি করেছেন সোহেল রানা নামের এক যুবক। বাজারে ভালো চাহিদা ও দাম থাকায় এবং লাভজনক প্রমাণিত হওয়ায় নতুন জাতের এই তরমুজ চাষে অনেক কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুরের মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় হলুদ তরমুজ চাষ করছেন সোহেল রানা। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে এই নতুন জাতের তরমুজ দেখতে তার মাঠে ভিড় করছেন অনেকে। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা পাইকারি দরে। মাঠ থেকেই পাইকাররা এসব তরমুজ নিয়ে যাচ্ছেন।

তরমুজ চাষি সোহেল রানা বলেন, ‘স্থানীয় বাজারে বাবার স্টেশনারি দোকানের পাশাপাশি অনেকটা সখের বশে পরীক্ষামূলকভাবে এই তরমুজ চাষ শুরু করি। হিলির মহিলা কলেজের পাশে পরিত্যক্ত দুই বিঘা জমিতে তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ বর্ণের তরমুজ চাষ শুরু করি। চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে। প্রতিটি গাছে পাঁচ থেকে ছয়টি করে তরমুজ ধরছে। এলাকায় নতুন হওয়ায় এই জাতের তরমুজ চাষে বেশ সাড়া পেয়েছি। হলুদ রংয়ের দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ও স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে এই জাতের তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে। আগামীতে আরও ব্যাপকভাবে এই জাতের তরমুজ চাষের ইচ্ছা আছে। প্রতি বিঘা জমিতে এই জাতের তরমুজ চাষে আমার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকার মতো। প্রতিটি তরমুজ দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছি ৮০ থেকে ৯০ টাকা পাইকারিতে। মাঠ থেকেই বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসব তরমুজ নিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে আমার ভালোই লাভ থাকবে।’

তিনি আরও জানান, জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই বাজারে এই নতুন জাতের তরমুজ আসায় এবং রমজান মাসে বাজারে বেশ চাহিদা ছিল এই জাতের তরমুজের। স্থানীয় হিলিবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এই হলুদ তরমুজ। তবে প্রথমবারের মতো এই জাতের তরমুজ চাষ করার কারণে খরচ কিছুটা বেশি পড়লেও পরে এটা কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

সোহেল রানা বলেন, ‘তেমন কোনও খরচ না হওয়ায় এবং লাভ ভালো হওয়ার কারণে স্থানীয় অনেক কৃষক প্রায়ই আমার কাছে আসছেন। এ ধরনের তরমুজ চাষের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং এধরনের তরমুজ চাষের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’

তরমুজ চাষ দেখতে আসা কৃষক সাইফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সোহেল রানা এখানে নতুন জাতের হলুদ বর্ণের তরমুজ চাষ করে বেশ সফল হয়েছেন জেনে তারা সেটি দেখতে এসেছেন। তারা বলেন, ‘এই জাতের তরমুজের যে চাহিদা বাজারে দেখছি তাতে করে এই জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে। একারণে আমরাও তার কাছে এই তরমুজ চাষের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছি।’

খামারে কাজ করা শ্রমিক ইয়াকুব আলী জানান, সোহেল রানা দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখানে পাঁচ-ছয় জন শ্রমিক চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল হওয়ার আগ পর্যন্ত দেখাশোনা করেন। ফল পরিপক্ক হলে সেগুলো গাছ থেকে উঠিয়ে বাজারে সরবরাহ করেন তারা। যে মজুরি পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের ভালোই চলছে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন জানান, ‘হাকিমপুর উপজেলার পৌরসভা ব্লকের মহিলা কলেজ পাড়া এলাকায় সোহেল রানা নামের এক যুবক প্রথমবারের মতো গোল্ডের ক্রাউন বা রক মেলন জাতের তরমুজের চাষ করেছেন। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছি। রকমেলন একটি আকর্ষণীয় ফল। তিনি এই ফল বাজারজাত করেছেন। বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। এর রং ও স্বাদ দেখে ক্রেতা ও চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আমরা এই রকমেলন জাতের তরমুজ চাষ হাকিমপুর উপজেলায় সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যেসব কৃষক এই জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে আমাদের কাছে আসছেন আমরা তাদের কারিগরিসহ সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’

HostGator Web Hosting