| |

সর্বশেষঃ

আকুয়ার সবু হত্যার অপর আসামী ও আরেক সন্ত্রাসী অস্ত্র গুলিসহ ডিবি’র অভিযানে গ্রেফতার

আপডেটঃ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ | জুন ১৫, ২০১৯

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযানে আকুয়ার শফিকুল ইসলাম সবু হত্যার অন্যতম আসামীসহ অপর সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় একটি পাইপগান ও দুটি কার্তুজ (গুলি) উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হত্যা মামলার অন্যতম আসামী হলো দ্বীন ইসলাম এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী হলো ধোবাউড়ার দিপন মং। তাদেরকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শহরের বাশবাড়ি কলোনীর সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম সবু প্রথম স্ত্রী মাহমুদাকে রেখেই আকুয়া হাবুন বেপারীর মোড় এলাকার আফরোজা শেখ ইতির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত এবং পরে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে শর্ত ছিল আগের স্ত্রী মাহমুদাকে তালাক দিবে। এরপর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী (আকুয়ার আলোচিত হত্যাকান্ডে নিহত আজাদ এর বোন ) ইতিকে নিয়ে সবু আজাদের বাড়িতেই বসবাস করতে থাকে। সবু প্রথম স্ত্রী মাহমুদাকে তালাক না দিয়ে চুপিসারে তার সাথে যোগাযোগ রাখে। দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতির সাথে এ নিয়ে চড়াই উৎড়াই চলে আসছিল। আজাদ হত্যার পর সবু দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে যোগাযোগ কমিয়ে প্রথম স্ত্রী মাহমুদার সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে সবুর সাথে ইতির ক্ষোভ চলছিল। ইতি সিদ্ধান্ত নেয় সবুকে ইচিত শিক্ষা দিবে। সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নানা কৌশলে ইতি তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় উৎপেতে থাকে। স্বামী শফিকুল ইসলাম সবু গত ১০ জুন দুপুরে অতি গোপনে প্রথম স্ত্রী মাহমুদার কাছে যায়। দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি চুপিসারে তার সতীন প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে স্বামী সবুকে দেখতে পায়। ইতি ক্ষোভে ফেটে পড়েন সিদ্ধান্ত নেন আজ রাতে যে কোনো একটি ঘটনা ঘটাবে। এদিকে সবু প্রথম স্ত্রী মাহমুদার কাছ থেকে প্রায় আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির বাড়িতে আসে। বিকেলে পাশের মোড়ে খেলা দেখে রাত প্রায় ১২ টার দিকে সবু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির বাসায় এসে প্রতদিনের মত প্রয়োজনীয় ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অপরদিকে পুর্ব পরিকল্পনা মতে, দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি নিজের ওড়না দিয়ে ঘুমন্ত স্বামী সবুর গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। হত্যার পর রাতে নিজের বিছানার চাঁদর দিয়ে পেচিয়ে স্বামী সবুর লাশ টেনে হেছড়ে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। এ এ সময় হত্যাকারী ইতি তার নিজের ব্যবহৃত (হত্যায় ব্যবহার করা) ওড়না পুকুরে ফেলে দেয়।
এ হত্যাকান্ডে নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদি হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা নং-৪৪, তারিখ-১৩/০৬/২০১৯ ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দঃ বিঃ দায়ের করে। মামলায় নিহতের স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতি ও তার ভাই দ্বীন ইসলামসহ আরো অজ্ঞাতনামা দুইতিনজনকে আসামী করা হয়।
ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, জেলা পুলিশের মামলাটিকে অধিক গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবি পুলিশকে তদন্তসহ জরুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, ঘাতকচক্রকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। ডিবি পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে এসআই মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান শুরু করে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নিহতের লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডের মূলহোতা দ্বিতীয় স্ত্রী ইতিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আফরোজা শেখ ইতি হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পরদিন শুক্রবার রাতে হত্যাকান্ডের অপরহোতা ইতির ভাই দ্বীন ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দ্বীন ইসলামের বরাত দিয়ে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, শফিকুল ইসলাম সবু হত্যার সাথে দ্বীন ইসলামের সংশ্লিষ্ঠতা থাকার কথা স্বিকার করেছে। ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, শফিকুল ইসলাম সবু হত্যাকান্ডের মূলহোতা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইতি গ্রেফতার এবং আদালতে স্বিকারোক্তি প্রদান করে। এর পরদিন অপর আসামী ইতির ভাই দ্বীন ইসলাম গ্রেফতারের মধ্য এ গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি এখন দিনের আলোর মত পরিস্কার। তার বিশ্বাস সবু হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার এবং হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের ভাবমুর্তি আরো উজ্জল হয়েছে। তিনি এ জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ওসি শাহ কামাল আকন্দ আরো জানান, অপর অভিযানে এসআই আক্রাম হোসেন সংগীয় অফিসার ফোর্সসহ শহরের শম্ভুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি পাইপগান ও ২টি কার্তুজ সহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দিপন মংকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি ধোবাউড়ার হাজংপাড়ায়। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

HostGator Web Hosting