| |

সর্বশেষঃ

হাওড় ও চর উন্নয়নের সেন্টার অফ এক্সসিলেন্স হবে বাকৃবি : পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেটঃ ৪:১৮ অপরাহ্ণ | জুন ১৬, ২০১৯

বাকৃবি সংবাদাদাতা : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হয় এক একটি ইনস্টিটিউটকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ হাওড় ও চরাঞ্চলের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এই লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। এই ইনস্টিটিউটকে কেন্দ্র করেই হাওড় ও চরের জন্য জনকল্যায়ণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। রবিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত ‘হাওড় ও চর উন্নয়ন আপনার জানা আপনার ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান, এমপি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দীন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সিনিয়র সচিব অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে মিঠা পানির অনেক মাছই হারিয়ে যাচ্ছে। হাওড়ের অনেকেই খাচায় মাছ চাষের দিকে যাচ্ছে। ফলে হাওড়ের সাধারণ মানুষের কর্তৃত হারিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি দূর করতে হাওড় এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পোনা মাছ ছাড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ অঞ্চলের উন্নয়নে জনকল্যাণমূলক ও ভূমিহীন কৃষকের জন্য লাভজনক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, হাওড় ও চর অঞ্চলে এখনো প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ জমি পতিত থাকে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই জমিগুলো চাষের আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশের খাদ্যশস্যের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, এখন আর হাওর অঞ্চল আগের মতো পিছিয়ে নেই। বর্তমান সরকারের উন্নয়স পরিকল্পনার আওতায় এই অঞ্চলে রাস্তা-ঘাট, বাজার ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। এই অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে আর একটু গবেষণা করে সময়উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কৃষদের মধ্যে সম্প্রসারণ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের উন্নত জেলাগুলোর সাথে পাল্লা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

এছাড়াও সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের হাওড় ও চর অঞ্চলে শস্য উৎপাদনের প্রধান সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রতিকারের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, হাওর ও চর এলাকার কৃষি পরিবেশের উপর ধারবাহিক গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কৃষকের জীবন জীবিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে গত বছর ২২ জুলাই হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ওই ইনস্টিটিউট থেকে হাওড় ও চর এলাকায় ফসল ধারা ও খামার ব্যবস্থার উপর এম.এস., পি.এইচ.ডি. ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রদান করা হবে। এছাড়াও কৃষক, বিত্তহীন পুরুষ ও নারীদের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য লাগসই প্রযুক্তি বিস্তারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হবে। এক কথায় হাওড় ও চরের কৃষকের সাথে গবেষকদের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করবে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট।

রোববার (১৬ জুন) নগরীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) অনুষ্ঠিত ‘হাওর ও চর উন্নয়ন: আপনার জন্য আপনার ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, হাওর এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সরকার ৫শ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা বাড়ি বাড়ি টিউবওয়েল দেবো, ল্যাট্রিন দেবো। আরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে। যত পুল-কালভার্ট নির্মাণ বাকি রয়েছে, সব আমরা বানিয়ে দেবো।

‘বাচ্চাদের স্কুলগুলো আরও সুন্দর করে করবো। হাওর এলাকার গরিব মানুষের জন্য আমরা আরও বেশি করে ঘর বানাবো। পানি ও ট্যানিটেশন সমস্যা দূর করবোই। বর্তমান সরকার হাওরবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক উদার।’

হাওর প্রসঙ্গে এম এ মান্নান বলেন, হাওরের গ্রামে গ্রামে স্যানিটেশন অবস্থা দেখলে শরীর শির শির করে। স্যানিটেশন বর্জ্য হাওরের পানিতে পড়ছে। এই পানি খেয়ে কীভাবে বড় হলাম, অবাক লাগে। নিম্নমান, ভূমিহীন মানুষদের জন্য প্রকল্প হতে হবে। হাওর অঞ্চলে আরো উন্নয়ন করতে হবে।

হাওর অঞ্চলের স্মৃতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শৈশবে আমি হাওরের বাইরে কোথাও যাইনি। হাওরে নানা ধরনের মাছ ধরেছি। হাওরে মামার বাড়ি, বাবার বাড়ি। হাওরে গরুর সঙ্গে সখ্যতা ছিল, মাছের সঙ্গে প্রেম ছিল। হাওরের সামান্য পানিতে বোয়াল চিক চিক করতো। এই মাছ ধরেছি। শৈশবে শোল মাছের পেছনে দৌড়েছি।

হাওরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, হাওরের সঙ্গে সব সময় ছিলাম। চাকরিজীবনে কিশোরগঞ্জের ডিসি হিসেবে অনেক দিন ছিলাম। সেখানেও অনেক হাওর। আমার হাওরময় জীবন। হাওর নিয়ে ভাবনা বিশাল ব্যাপার। তবে ভাবনা রোমান্টিকও হতে পারে। তবে হাওর নিয়ে উন্নয়নের ভাবনা হতে হবে। হাওরের একজন মা সুন্দর কাঁথা সেলাই করবেন, আর আমরা ঢাকায় বসে ভোগ করবে। অন্যদিকে সেই মা আধপেটে খেয়ে ঘুমিয়ে থাকবে তা হবে না।

গবেষণার উপর জোর দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের গবেষণার উপর জোর দিতে হবে। হাওরের সমস্যা নিরসনে গবেষণা করতে হবে। অতীত নয়, এখন বর্তমান নিয়ে ভাবতে হবে। কৃষকদের নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা কৃষকের জাতি। কোনো কালচার নয় এগ্রিকালচার বিষয়ক কোনো প্রোগ্রাম হলেই আমাকে পাবেন। আমাদের সামনে যেতে হবে। সরকার গবেষণায় খুবই আগ্রহী। আমাদের আরো গবেষণা করতে হবে। গবেষণার ফান্ড আরো সহজ করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ময়মনসিংহ) উপচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম প্রমুখ।

HostGator Web Hosting