| |

সর্বশেষঃ

কোরবানির এক মাস আগেই মসলার দাম চড়া

আপডেটঃ ১২:৪০ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোরবানির ঈদ আসতে এখনও প্রায় এক মাসের বেশি বাকি। এর মধ্যে একাধিক মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

ভোক্তারা বলছেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদ আসার এক থেকে দুই মাস আগেই ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কারণ এ সময় মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। এ জন্য সুযোগ বুঝে বেশি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর কয়েকটি বাজারে শনিবার খুচরা মসলা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-২৬০০ টাকা কেজি- যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১৩০০-১৪০০ টাকা। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১১০০-১২০০ টাকা বেড়েছে। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকা কেজি- যা গত মাসে বিক্রি হয়েছে ১৬০০ টাকা। মাসের ব্যবধানে কেজিতে লবঙ্গের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। আদা মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি- যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি- যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা।

আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি- যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা। মাঝারি মানের প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা- যা এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৩৩০-৩৪০ টাকা। সাদা গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি। কালো গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি। এদিকে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দৈনিক বাজার দরের তালিকায়ও দেখা গেছে। সেখানে মাসের ব্যবধানে কেজিতে এলাচের দাম বৃদ্ধির চিত্র দেয়া হয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। লবঙ্গের দাম ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। মান ভেদে আদার দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশ। দেশে রসুনের দাম বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশ।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারে কিচেন মার্কেটের মসলা বিক্রেতা কামাল বলেন, মাস খানেক আগের চেয়ে এলাচের দাম অনেক বেড়েছে। এক মাস আগে এলাচ পাইকারি পর্যায় থেকে কিনে আনতাম ১৩০০ টাকায়- যা বর্তমানে ২১০০-২২০০ টাকায় কিনতে হয়। এ জন্য বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। একই বাজারের আদা ও রসুন বিক্রেতা মো. আল-আমিন যুগান্তরকে বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই রাজধানীর পাইকারি বাজারে আদা ও রসুনের দাম বাড়তি। কারণ চানতে চাইলে পাইকাররা বলেন, চাহিদার তুলনায় জোগান কম। এ ছাড়া বেশি দাম দিয়ে তাদের আনতে হচ্ছে। এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই আমরা খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে এনে বেশি দামে বিক্রি করছি।

তবে বাজারে মসলাজাতীয় পণ্য কিনতে আসা লতিফ উদ্দিন বলেন, এটা আসলে ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তারা কোরবানির ঈদ আসার এক থেকে দেড় মাস আগেই মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কারণ কোরবানির ঈদ ঘিরে মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। বেচা-বিক্রিও হয় বেশি। এ জন্য সময় বুঝে বেশি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। তাই বাজার মনিটিরিং অনেক জোরদার করতে হবে। যাতে করে সাধারণ ভোক্তাদের অযথা বেশি টাকা খরচ করতে না হয়।
জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে যাতে করে মসলার দাম বেশি নিতে না পারে এ জন্য তদারকি করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। কি কারণে বেড়েছে সে বিষয়েও তদারকি করা হবে। এ সময় কেউ যদি অন্যায্যভাবে বেশি দাম রাখে তাদেরকে ভোক্তা আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হবে।

HostGator Web Hosting