| |

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহে রিকসা চালকের মেয়ে সুমি ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরী পেয়ে কাঁদলেন ও কাঁদালেন

আপডেটঃ ৮:১২ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৯, ২০১৯

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি। স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার যোজন যোজন ব্যবধানে আশাহত হয়েছিলেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন পুলিশে চাকরি পেতে কোনো টাকা-পয়সা লাগেনা। পরে আবেদন ফরম পূরণ করে গত ১ জুলাই ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে দাঁড়ালেন রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি।
সব বাছাইয়ে মেধা ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হলেন। সোমবার রাত ৮ টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল(টিআরসি) পদে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন এ তরুণী সুমি। এ সময় পাশে থাকা সুমির উমর ফারুক সহ অনেকেই কেদে ফেলেন। এতো কষ্টের কান্না নয়। এ তো আনন্দের অশ্র“জল।

উমর ফারুক বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজ। বিনা পয়সায় আমার মাইয়ার (মেয়ের) চাকরি হইছে। মাগনা (টাকা ছাড়া) চাকরি হয় এইড্যা (এটি) আইজই (আজ) দেখলাম। আমি কোন দিন কল্পনাও করিনি যে টাকা ছাড়া আমার মেয়ে সুমির চাকরী হবে। সুমি কোন দিন সরকারী চাকরী করবে এটা ভাবিনি। যা এত আমার বিশ্বাসই হতো না। সুমির বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুহিলা গ্রামে।

দারিদ্র্যের অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে বেড়ে উঠেছেন এতিম কাজল মিয়া। মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে তার। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগ আপ্লুত কাজল হয়ে পড়েন। কথা বলতে পারছিলেন না। জেলার তারাকান্দা উপজেলার বকশীমুল এলাকার এ তরুণ বলেন, আমি সরকারী চাকরী পেয়েছি, তা ‘আমার বাবা বেঁচে থাকলে এবং দেখে যেতে পারলে অনেক খুশি হতেন। আমার মা এখনো জানেন না আমার চাকরি হয়েছে। মাকে মিষ্টিমুখ করিয়ে এ খুশির সংবাদ দেবো। আমি বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরেছি। দেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখবো।’
বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করবো উল্লেখ করে হালুয়াঘাট উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গল্প শুনেছি টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় না। পুলিশ বদলে যাচ্ছে। আমরা এ বদলে যাওয়ার যুগের অগ্নি সাক্ষী। আমরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করতে চাই।

সোমবার রাত ৮টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ফল ঘোষণার পর পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীরা এভাবেই সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের অনুভূতির কথা জানান। চূড়ান্ত এ ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন। সুমি ও কাজলের মতোই ময়মনসিংহে ২৫৭ জন মেধা ও যোগ্যতায় মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন।
নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে দেখা যায়, এবারের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি প্রাপ্তদের বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অনেকের বাবা নেই আবার কারো মা নেই। জীবনের সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করে খেয়ে না খেয়ে আবার কখনো আধাপেট খেয়ে কোন রকমে পড়াশুনার খরচ চালিয়ে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। এভাবে টেনে হেছড়ে লেখাপড়া চালিয়ে আবার সরকারী চাকরী তা কোন দিন ভাবেনি। সরকারী চাকরী তো সোনার হরিণ। এ অবস্থায় বিনা পয়সায় সরকারী চাকরি সোনার হরিণ হাতে পেয়ে অনেকের চোখেই ছিল আনন্দাশ্র“।

পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে সংবাদ সম্মেলনে জানান, টিআরসি পদে ৬ হাজার ২৮০ জন পরীক্ষার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৩৬৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ৪৫২ জন। এর মধ্যে থেকে ২৫৭ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইজিপি ডঃ জাবেদ পাটোয়ারী শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে এ নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।’

দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পুলিশ বিভাগে চাকরি পেতে হলে ঘুষ দিতে হয়। নইলে কোনো মুরব্বি বা টেলিফোনের জোর থাকতে হয়। নানা অভিযোগ, ঘুষ কেলেংকারী, যোগ্য ও মেধাবীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য এবং দায়িত্ব জ্ঞানহীনদের পুলিশে নিয়োগ। এ নব অভিযোগের শেষ সীমায় পৌছেছিল পুলিশের ভাবমূর্তি। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সময়ে এসে দেশ জুড়ে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া মাত্র শেষ হলো।
এত বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগের আগেই নানা অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসা এবং স্বচ্ছ একটি নিয়োগ পক্রিয়ার মাধ্যমে মেধাবী, যোগ্য, সৎ আদর্শবান যুবকদের নিয়োগ দিতে কঠোর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
জনবান্ধব পুলিশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন পুরণে অঙ্গিকার পুরণ, দৃঢ়তা বাস্তবায়নে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কঠোর নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কঠোর নিয়মানুবর্তীতা ও স্বচ্ছতার মধ্যে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের চুড়ান্তভাবে বাছাই করে শতভাগ সফলতা লাভ করেছে।

HostGator Web Hosting