| |

সর্বশেষঃ

নেত্রকোণায় ৪৩৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

আপডেটঃ ৩:২৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৭, ২০১৯

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ৯টিই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব উপজেলায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, পুকুর-মৎস্য খামার, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে কলমাকান্দায় বন্যার পানিতে নিখোঁজ শিশু উজ্জ্বল মিয়ার (৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উজ্জ্বল মিয়া বিশরপাশা নানীয়া গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে। সে সোমবার বিকেল তিনটার দিকে ঘর থেকে নিখোঁজ হয়। ওই ঘরটিতে বন্যার পানি উঠেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এলাকায় পানি আরও বাড়ছে। নতুন করে খালিয়াজুরি ও মদন উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা, পূর্বধলা, মোহনগঞ্জ, আটপাড়া ও সদর উপজেলায় নতুন করে বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলায়। এর মধ্যে কলমাকান্দার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ এখনও বন্ধ রয়েছে। ওই উপজেলায় গত তিন তিনেও পৌঁছানো যায়নি। পানিবন্দি মানুষ গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত প্রাণি নিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় কয়েক হাজার পুকুর ও খামার ডুবে মাছ পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয় বেশ কিছু গ্রামীণ বাজার এখনও পানির নিচে রয়েছে। পানি বেশি থাকায় কলেজ, মাদরাসাসহ অন্তত ৪৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ছয় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জানান, ‘সারা জেলায় ৩৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কলমাকান্দায় ১৫৫টি, সদরে ২৫টি, বারহাট্টায় ৮০টি, দুর্গাপুরে ৪১টি, মোহনগঞ্জে ২১টি, আটপাড়ায় ১০টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও যোগাযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।’

নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাকিকুল ইসলাম বলেন, ‘কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোণা সড়কের সাড়ে ৫ কিলোমিটার পথের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওই সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, ‘সোমশ্বরী ও ধনু নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কিছুটা নিচে থাকলেও কংস ও উব্দাখালি নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি কংস নদীর জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২.১০ মিটার এবং উব্দাখালি নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার কারণে জেলার ১০ উপজেলায় ৯৮টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বন্যাকবলিত মানুষদের খাবার স্যালাইন,পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, সর্দি-জ্বর ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া আছে। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত মোট ১১০ মেট্রিকটন চাল ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

HostGator Web Hosting