| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

ব্রহ্মপুত্র খনন নিয়ে সমন্বয় সভা

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ব্রহ্মপূত্র খননে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে

আপডেটঃ ৬:০০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : আন্তর্জাতিক নৌ প্রটোকল রুট হিসেবে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নিশ্চিত করর লক্ষ্যে এককালের খর¯্রােতা এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ পুরনো ব্রহ্মপুত্র খনন কাজের শুরুতেই মাটি ফেলা নিয়ে নানা বিপত্তি দেখা দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৯০ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যবহৃত ২৪ ড্রেজারের মাঝে মাত্র ৮টি চালু হয়েছে। মাটি ফেলার জন্য জায়গা এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় ১৬টি ড্রেজার অলস বসে আছে। এতে প্রতিটি ড্রেজারে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানান। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ।
ব্রহ্মপূত্র নদ খনন সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভার বুধবার ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি নদের কাছাকাছি খাস জমি খুজে বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করেন।
সমন্বয় সভায় ড্রেজিং এর উপর বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন ও বক্তব্য উপস্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পূনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, নদের বাক সমূহের ভাঙ্গণ রোধে বাকসমুহকে সোজা করে খনন করা হবে। নদের উপরিভাগ এক কিলোমিটারের মধ্যে নীতিমালা অনুসারে সরকারী, বেসরকারী, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, ঈদগাহ, হাট-বাজার, খাস জমিসহ ইত্যাদি। এসব স্থান না পাওয়া গেলে বেসরকারী জমি ভাড়া নিয়ে মাটি স্তুপ করে রাখা হবে এবং তা সরকারী নিয়মে বিক্রি করা হবে।
ময়মনসিংহ জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিনুল হক শামীম বলেন, ময়মনসিংহে এর আগেও কয়েকটি মেঘা প্রকল্পের ব্যাপারে মাত্র গুটি কয়েক লোকের বিরোধিতার জন্য ভেন্তে গেছে। আগামীতে ব্রহ্মপূত্রসহ আগত প্রকল্পগুলো যাতে কোনো ষড়যন্ত্র বা অযৌক্তিক আন্দোলনের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ না হয় তার জন্য প্রশাসনের সময়োপযোগী কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান। বিশেষ করে নতুন বিভাগীয় শহরের জন্য জমি অধিগ্রহন দ্রুত সম্পন্ন করার আহবান জানান।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিনুল হক শামীম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শের মাহবুব মুরাদ, বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ, বিজিবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক বিভাগ, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ।
বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রকৌশলীরা গত দুই মাস ধরে গফরগাঁও, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেও মাটি ফেলার প্রয়োজনীয় জায়গাগুলো এখনো বুঝে পায়নি। ত্রিশালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় মাটি নিয়ে নানা জটিলতা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, খননকৃত মাটি ফেলার জায়গা দ্রুত ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পূনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে গাজীপুরের কাপাশিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদের ময়মনসিংহ অংশের ৯০ কিলোমিটার খননের কাজ চলছে। ৩২০ ফুট প্রশস্ত এবং শুকনো মৌসুমে ১০ফুট গভীরতা নিশ্চিত করে নদটি খনন করা হবে। ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খননে মোট ৮.৮ কোটি ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। এতে প্রচুর জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। তবে খননকৃত মাটি ফেলা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। তিনি আরো বলেন, মাটি অবশ্যই নদীর উপরিভাগে ফেলব। উপরে ফেলতে না পারলে নদী কাটা যাবে না। এজন্য সকলকে সহায়তা করতে হবে।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম আরো জানান, ইতিমধ্যেই জামালপুর অংশের ব্রহ্মপূত্র নদের খনন কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী মাসে দাখিলকৃত দরপত্রগুলোর মূল্যায়ন করা হবে।

HostGator Web Hosting