| |

সর্বশেষঃ

বাবা-ছেলে আলাদা দলের রাজনীতি করতেই পারে : ফখরুল

আপডেটঃ ২:৪৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী একজনের বাবা আওয়ামী লীগ নেতা- এ বিষয়ে আলোচনা তৈরির প্রেক্ষাপটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে বাবা-ছেলে আলাদা আলাদা দলের রাজনীতি করতেই পারে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল একথা বলেন। বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের এ যৌথসভা হয়।

ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাকে নিয়ে তৃণমূলে অনেক আলোচনা চলছে। জানা গেছে, শ্রাবণের বাবা যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার এক ভাই কাজী মুস্তাফিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অপর ভাই কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। আর এক ভাই কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিক উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।

এ বিষয়ে আলোচনায় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে থাকতেই পারে যে বাবা একটা রাজনীতি করবেন, আমি একটা রাজনীতি করবো। আমার ছাত্রজীবনে আমার বাবা একটা রাজনীতি করতেন আমি একটা করতাম। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। না বাবার হয়েছে, না আমার হয়েছে। এখনতো ছেলে বিপদে পড়ে যাচ্ছে, তার বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে থাকে, তাহলে তার ছেলে বিএনপি বা ছাত্রদল করলে তার বিপদ হবে। আবার বাবার বিপদ হবে, তার ছেলে ছাত্রদল করলে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাতো এখন বলতে পারবো না, তবে মানববন্ধন হবে, এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে।

তিনি জানান, আগামী রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্যজীবীদল, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুক্তিযোদ্ধা দল, মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাঁতীদল, বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অ্যাব মানববন্ধন করবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি বেআইনিভাবে কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার প্রাপ্য জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য তার মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েছি। আজকের যৌথসভায় সেই আন্দোলনের আর একটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি। আপনারা জানেন গতকাল বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) আমরা ঢাকায় মানববন্ধন করেছি। আজকে বৃহস্পতিবার সারাদেশে মানববন্ধন চলছে।

খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গেছেন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, প্রতিহিংসাটা অত্যন্ত গভীরে। আজকের শাসকগোষ্ঠী পুরোপুরি অবৈধভাবে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের পক্ষে এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে না, যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন। সে কারণে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একই ধরনের মামলায় অন্য যারা সাজা পেয়েছেন তারা জামিনে আছেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে পুরোপুরি দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগেও বলেছি পৃথিবীর ইতিহাসে বোধ হয় খুব কম গণতান্ত্রিক দল আছে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এতো বেশি সাফার করেছে। দুই মাসে আগের হিসাবে ২৬ লাখ আসামি করা হয়েছে; এক লাখের ওপরে মামলা, ৫০০-এর ওপরে নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) গতকাল সংসদে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। করলে বিরোধীদের অস্তিত্ব থাকতো না। একথাটা বলে উনি কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে অস্তিত্ব রক্ষা না করার জন্যই তারা কাজ করে যাচ্ছেন?’

মহিলাদল নেত্রী রাজিয়া আলিমকে গ্রেফতার করার বিষয়টি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, গ্রেফতার এখনো চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

HostGator Web Hosting