| |

সর্বশেষঃ

নবীর বিরুদ্ধে লিখলে অবশ্যই ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও কয়েকজনের হতাহতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি হিন্দু ছেলের ফেসবুক আইডি হ্যাকিং করে তার নাম দিয়ে কতগুলি মিথ্যাচার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাঙ্তি ঘটনা ঘটে গেছে।
রোববার (২০ অক্টোবর) গণভবনে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলে তার ফেসবুকের আইডি হ্যাক করে সেখানে তার নাম দিয়ে কতগুলি মিথ্যাচার করা হয়েছে। যার ফেসবুক হ্যাকিং করেছে তার কাছে আবার ফোন করে বিশ হাজার টাকাও চেয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ হাজার টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে এমন সব কথা লিখবে সেটা তার জন্য তি হবে। এই কথাটা পাওয়ার পরপরই ওই ছেলেটা পুলিশ স্টেশনে যায়। সেখানে একটা জিডিও করে।
পুলিশ বিপ্লব চন্দ শুভকে আটক করে রেখেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিডি করা সত্ত্বেও সেখানে তাকে কিন্তু পুলিশ আটক করে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেবো। টেকনোলজি মানুষ যেমন ব্যবহার করতে পারে আবার কেউ অপকর্ম করলে সেটা ধরার টেকনোলজিও রয়েছে। এটা ধরা পড়বে।
তিনি বলেন, ফেসবুক অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছি। আরও তথ্য আমরা বের করতে পারবো।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব সময় সব জিনিস একেবারে ধারাবাহিক এমনভাবে প্রচার করবেন না যা একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বরং যারা সত্যিকার অপরাধী তাদের দেখান।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ঘটনা কেন্দ্র করে সেখানে যে অনাকাঙ্তি ঘটনা ঘটে গেছে। যারা ফেসবুকে এই হিন্দু ছেলেটার আইডি হ্যাকিং করে তার কাছে টাকা চেয়ে তা না পেয়ে তার নাম করে যে কথাগুলি লিখেছে, সে তো একজন মুসলমান ছেলে। একজন মুসলমান হয়ে কীভাবে নবী করিম (সা.) নিয়ে এ ধরনের বাজে কথা লেখে? এবং আরেকজনকে জড়াবার চেষ্টা করতে পারে।
পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানকার লোক একজন পীর সাহেব আছেন বেশকিছু লোককে তিনি জড়ো করেন। যখন পুলিশ তাদের বোঝাচ্ছে আপনারা এগুলি করবেন না, আমরা গ্রেফতার করেছি, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তখন পুলিশের ওপরও তারা চড়াও হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের ওপর চড়াও হলে, পুলিশ নিজেদের বাঁচানোর জন্য একটা ঘরে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেওয়ার পরও তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। সেখানে একজন এসআইয়ের গায়ে গুলি পর্যন্ত লাগে। সেই সময় সেখানে এসপি, ডিসি সবাই পৌঁছে যায়।
শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশকে রা করা ও অন্য সাধারণ মানুষ যারা ছিল সেখানে, যারা তাদের বোঝাতে গিয়েছিল তাদের রার জন্য গুলি ছোড়ে। ফলে বেশ অনেকজন আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু কনফার্ম বলা হয়েছে আরেকজনের অবস্থা মুমূর্ষু।
বিােভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো, যে আইডিটা হ্যাকিং করলো এ ধরনের ঘটনা ঘটালো আর সেটা কেন্দ্র করে কারা কী উদ্দেশ্য নিয়ে তারা সমবেত হলো এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করলো তাদের উদ্দেশ্যেটা কী ছিল সেটাই বড় কথা। এরপর থেকে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। তাহলে এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যেটা কী?
যারা পরিস্থিতি ঘোলা করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যারা এই ঘটনা কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যদি সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে। যদি তাদের নবী করিম (সা.) প্রতি এতটুকু সম্মান থাকে তাহলে আরেকজনের তি করার জন্য এ ধরনের জঘন্য কথাটা কীভাবে লেখে? এটাও আমার একটা প্রশ্ন।
দেশ ভালো চললে পরিবেশ অশান্ত করতে এসব ঘটানো হয় অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা বলেন, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এসব ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে তখনই একটা শ্রেণি আছে নানাভাবে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে সেই জন্য আমি সাধারণ মানুষ তাদের কাছে সহযোগিতা চাই।
দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে দেশবাসীকে বলবো, সবাইকে ধৈর্য ধরতে। কেউ যদি আমাদের নবী করিম (সা.) বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যের তি করার জন্য যারা এ ধরনের কথা লিখবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল যেমন মানুষ ভোগ করছে, সেরকম এর কুফলও ভোগ করছে। নানা ধরনের বিপদে ফেলে দেয়। এটা যেন বিপদে ফেলতে না পারে অর্থাৎ গুজবে কান না দিয়ে সঠিক বিষয় জেনে নেওয়া দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার ধর্ম তার তার কাছে। কাজেই সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সম্মানের সঙ্গে বাস করবে। এটাই আমাদের দেশের একটা নিয়ম এবং আমরা চাই যে বাংলাদেশ যেন একটা শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠে।
এর আগে ভোলার স্থানীয় পুলিশের প থেকেও বিপ্লব চন্দ শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে এবং সে এই কটূক্তির সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানানো হয়। তবু বোরহানউদ্দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে বিপ্লব চন্দ শুভর বিচার দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিােভ পালনকালে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন এবং ১০ পুলিশ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন।

HostGator Web Hosting