| |

সর্বশেষঃ

কিশোরগঞ্জ মহাসড়কটি এখন মৃত্যুকূপ!

আপডেটঃ ১:৪৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২২, ২০১৯

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অদক্ষ চালক ও মহাসড়কে আইন অমান্য করে ফিনটেস বিহীন গাড়ি চলাচলের কারণে কিশোরগঞ্জে বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। অকালে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

গত একমাসে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। আর পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে বহু মানুষকে। এই মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। দিন দিন এ মহাসড়কটি যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।

গাড়িচালকরা মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার ইজিবাইক ও সিএনজিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও সাধারণ মানুষ বলছেন অন্য কথা। চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া গাড়ি চালনাকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন তারা।

এদিকে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ড্রাইভারদের সচেতন ও সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোর আইন প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’সংগঠনের সদস্যরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পুলিশ ফাঁড়িতে পড়ে আছে দুর্ঘটনায় জব্দ করা ছোট বড় অসংখ্য গাড়ি, সিএনজি ও মোটরবাইক। জব্দ করা এ গাড়িগুলো দেখেই অনুমান করা যায় সড়কে প্রতিনিয়ত কি পরিমাণ দুর্ঘটনা ঘটছে।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নিহত হয়েছে ৫৯ জন আর বেসরকারি হিসেবে তা প্রায় দেড় শতাধিক। গত একমাসেই সড়কে নিহত হয়েছেন এক আইনজীবীসহ অন্তত ৩০ জন।

কিশোরগঞ্জ- ভৈরব মহাসড়কের যাত্রীরা জানান, এ সড়কে দূর্ঘটনার বহু কারণ রয়েছে। বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করা যায় চালকের আসনে হেলপার বসে গাড়ি চালাচ্ছেন। গাড়ির চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলছে। রাস্তায় নির্দিষ্ট গতিসীমা উল্লেখ থাকলেও তারা কোনভাবেই তা মানছেন না। আবার বিভিন্ন মোড়ে বা বাজারে যেখানে গাড়ির গতি কম হওয়ার কথা সেটাও তারা আমলে নিচ্ছেন না। গাড়ি ওভারটেক করার সময়ও তারা বেপরোয়াভাবে আইন অমান্য করে ওভারটেক করছেন। যাত্রীদের কোন কথাই তখন তারা শুনতে চাননা বরং উল্টো যাত্রীদের উপর চড়াও হন।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’এর কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি তৌফিক খান এ ব্যাপারে বলেন, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে গত কয়েক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেক মানুষ। রীতিমত এ মহাসড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদ। সড়কে দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এ মহাসড়কটি চার লেন করে মাঝে ডিভাইডার দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কঠোর আইন প্রয়োগও করতে হবে। ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিনটেসবিহীন গাড়ি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া এবং মহাসড়কে ব্যাটারি ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টমটম-নসিমন চলাচল বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সড়কে থামবেনা দুর্ঘটনা, থামবে না মৃত্যু।

কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডি এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে তৎপর রয়েছি। দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। স্পিড ডিটেক্টর ক্যামেরা দিয়ে দ্রুত গতিতে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে চিহ্নিত করে মামলা দেয়াসহ তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

HostGator Web Hosting