| |

সর্বশেষঃ

সুন্দরবনে দস্যুতার পরিণাম হবে ভয়াবহ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটঃ ৭:১৯ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণের কারণে সুন্দরবন এখন সবার জন্য নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘যেকোনও মূল্যে পর্যটন সম্ভাবনাময় সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখা হবে। কেউ দস্যুবৃত্তি করতে চাইলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শুক্রবার (১ নভেম্বর) সকালে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের খোঁজ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের নামে থাকা মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে, শুধুমাত্র খুন ও ধর্ষণ মামলা বাদে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে দস্যুরা এখন বাড়িতে শান্তিতে ঘুমাতে পারছে। পরিবারের সঙ্গে তারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা বনদস্যুদের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মী মোহসীন উল হাকিম ও সোহাগ দেওয়ানকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরবনে দস্যুতার ওপর নির্মাণাধীন চলচ্চিত্র ‌‘অপারেশন সুন্দরবন’ এর লোগো উম্মোচন করেন। এসময় চলচ্চিত্রটির অভিনয় শিল্পী ও কালাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মইনুর রহমান, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক আশরাফুল ইসলাম, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন, র‌্যাব-৬ এর কমান্ডিং অফিসার সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুস সালেহীন ইউছুফ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পংকত চন্দ্র রায়, সাবেক বনদস্যু ডন বাহিনীর প্রধান মেহেদী হাসান ডনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সুন্দরবন দাপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম র‌্যাবের আহবানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণে এগিয়ে আসে মাস্টার বাহিনী। দলটির প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টারসহ ৯ বনদস্যু ২০১৫ সালের ৩১ মে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের ফুয়েল জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ত্রেমে বনদস্যু মানজার বাহিনী, মজিদ বাহিনী, বড় ভাই বাহিনী, ভাই-ভাই বাহিনী, সুমন বাহিনী, দাদা ভাই বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আমির বাহিনী, মুন্না বাহিনী, ছোট শামছু বাহিনী, মানজু বাহিনী, সূর্য বাহিনীসহ ২৬টি দস্যুবাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন। সর্বশেষ গত বছরের ১ নভেম্বর বাগেরহাট স্টেডিয়ামে সত্তার বাহিনী, শরিফ বাহিনী, সিদ্দিক বাহিনী, আল-আমিন বাহিনী, আনারুল বাহিনী ও তৈয়ব বাহিনীর বনদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকরা ৩২টি বাহিনীর প্রধানসহ সর্বমোট ৩২৮ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসেন। তারা র‌্যাবের হাতে ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৩ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গত বছরের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর ম্যানগ্রোভ এই বনে বইছে শান্তির সুবাতাস। বন্ধ হয়েছে জেলে-বনজীবীদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও দেশি-বিদেশি চোরাকারবারীদের চাহিদা মতো হরিণ, বাঘ-কুমির শিকার ও পাচার।

HostGator Web Hosting