| |

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক ডিবি’র ওসি শাহ কামাল আকন্দ

আপডেটঃ ১১:৪১ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৩, ২০১৯

মোঃ রাসেল হোসনে, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা করে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শাহ্ কামাল আকন্দ ময়মনসিংহ ডিবিতে যোগদানের পর মাদক উদ্ধার ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক সফলতার পরিচয় দিয়েই চলছেন। মাদক ও অপরাধ বিরোধী অভিযানে ডিবি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করছে ময়মনসিংহবাসী। দিবারাত্রি টহলের মাধ্যমে মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং অপরাধ বিরোধী ধারাবাহিত অভিযানে শহরবাসীর মাঝে সস্থি ফিরে এসেছে। সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের (অতিঃ ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) নির্দেশনায় ওসি শাহ্ কামাল আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখায় জনগন এখন সুফল ভোগ করছে।
ডিবি পুলিশ সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর/২০১৮ থেকে অক্টোবর/২০১৯ এই ১৪ মাসে মাদক বিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিবি পুলিশ অগ্রনী ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হন। ডিবি ওসি শাহ কামাল আকন্দ এর নেতৃত্বে এই ১৪ মাসে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধার, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, জুয়ারী, অস্ত্রবাজ ও মাদকসেবীদের গ্রেফফতার করে। এছাড়া চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারসহ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে তিনি দায়িত্বশীলীতার পরিচয় দিতে সক্ষমতা অর্জন করেছেন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, অটো চোরসহ একাধিক অপরাধীর সাথে পুলিশের বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৬ অপরাধী নিহত হয়েছে। এ সময় প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্যও আহত হয় বলে পুলিশের দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের ৩ অক্টোবর ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি হিসাবে পুলিশ পরিদর্শক শাহ কামাল আকন্দ যোগদান করেন। আইসিটিতে বিশেষ অভিজ্ঞ পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) শাহ আবিদ হোসেনের সার্বক্ষনিক পরামর্শ ও কঠোর নির্দেশনায় যোগদানের পরই মাদক নিয়ে জোর ট্রলারেন্সনীতিতে কাজ শুরু করেন। মাদক, অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ সময়ে তিনি ৫৬ হাজার ৮৩৮ পিচ ইয়াবা, ৮ কেজি ১৩৯ গ্রাম হেরোইন, ৪৫ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাজা, ৩৩৯ পিচ ফেন্সিডিল, ২০০ লিটার চোলাই মদ, ৮০ বোতল বিয়ার, ৫শ নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করেন। এছাড়া সরকারী সম্পদ কাচা রাবার পাচারকালে ৫ হাজার কেজি রাবার উদ্ধার, ৫৪টি জাল ডলার উদ্ধারসহ ডলার প্রতারকচক্র, ছিনতইকারী ও ১০ চাদাবাজকে গ্রেফতার করেন। এই সময়ে অপরাধীচক্রের হাত থেকে অপহৃত ৩১ ভিকটিমকে উদ্ধার করে অপরাধীদের গ্রেফতার করে। এছাড়া বিভিন্নস্থান থেকে অভিনব কায়দায় চুরি হওয়া ২১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৩৬২টি মামলা নিষ্পত্তি এবং নিবারণ মূলক ঘটনা নিষ্পত্তি হয়েছে ২৭০টি। এছাড়াও এ সময়ে ডিবি পুলিশ প্রায় ৫ শতাধিক জুয়াড়ি গ্রেফতার, ৩ শতাধিক হারানো মোবাইল জিডিমুলে উদ্ধার করে।
ডিবি পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধার, জঙ্গি প্রতিরোধ এবং জঙ্গিদের গ্রেফতার, হত্যাকারী গ্রেফতার, ডাকাত, ছিনতাইকারী, অটো চোর গ্রেফতারে অভিযানকালে ডিবি পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৬ জন অপরাধী বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়। এ সময় অপরাধীদের ছোড়া ইটপাটকেল ও গুলিতে কমপক্ষে অর্ধশত ডিউটিরত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। একই সাথে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী পিস্তল, রিভলভার ও পাইপগানসহ ১৬টি অস্ত্র, গুলি ও কার্তুজ এবং অর্ধশত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় অর্ধশত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে ১৬টি।
অপরদিকে গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যজনক হত্যা মামলা, অজ্ঞাত লাশের পরিচয় সনাক্ত, গ্রেফতারকারীদের চিহিৃতকরণ, অপরাধীদের গ্রেফতার, গণধর্ষণ ও খুনের মামলার রহস্য উদঘাটনসহ কমপক্ষে ১৭টি মামলার রহস্য উদঘাটন, লাশের পরিচয় উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ডিবি পুলিশ।
এর মধ্যে পাগলা থানার আলমগীর হত্যা মামলায় ৭জন গ্রেফতার পুর্বক রহস্য উদঘাটন, একই থানার অটো রিক্সা চালক সুজন হত্যা মামলায় ২জন গ্রেফতার ও একজনের আদালতে স্বিকারোক্তি, ভালুকা থানার সাইফুল হত্যা অন্যতম। অপরদিকে ত্রিশাল থানার ধান ব্যবসায়ী আজিজুল হত্যাকান্ডে খুনী চক্রকে ফেনী থেকে গ্রেফতার এবং তাদের দেখানো মতে চট্টগ্রামের পাহাড়ের নীচ থেকে ভিকমিট আজিজুলের লাশ উদ্ধার, ব্যবহৃত সিএনজি ও ভিকটিমের লুন্ঠিত মোবাউল উদ্ধার, ফুলবাড়িয়া থানার কিশোর হাফেজ সুহান হত্যা মামলায় চারজন গ্রেফতার, চার্জসীট দাখিল, কোতোয়ালী মডেল থানার আলোচিত যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতার উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ময়মনসিংহের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানআমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানীতে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ ১৯জনকে গ্রেফতার এবং মুক্তাগাছায় প্রায় কোটি টাকা মুল্যের সরকারী বিদ্যুতের তার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন,চোরাই তার জব্দ এবং কৌশলে ৫জনকে গ্রেফতার ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
অতিসম্পতি দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় বইয়ে যাওয়া ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রীজ মোড় থেকে ট্রলি ব্যাগে ভর্তি মাথা, হাত, পা বিহীন বডি (দেহ) উদ্ধার মামলার কয়েকদিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও খুনীদের গ্রেফতারে সারা পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি ময়মনসিংহ পুলিশে স্বস্থি ফিরে এসেছে। ডিবির ওসি জানান, ট্রলি ব্যাগে দেহ পাওয়ার ঘটনাটিকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে হাত, পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। একটি চিরকুটের সুত্র ধরে কুড়িগ্রাম, পুর্বধলা, তারাকান্দা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে চার খুনীকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখিত খুনীদের নিজেদেরকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে দায় স্বিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত এই মামলাটির রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনসহ জেলা ও ডিবি পুলিশের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাত হত্যা মামলার পিরচয় সনাক্তকরণ, খুনীদের গ্রেফতার, মাদক উদ্ধারে একের পর এক সফলতার পরিচয় দেওয়ায় তিনি (ডিবি পুলিশ) বার বারই ময়মনসিংহ জেলায় এবং রেঞ্জে শ্রেষ্ট পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েছেন বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

HostGator Web Hosting