| |

সর্বশেষঃ

ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট: প্রথম দিনে যা যা ঘটলো

আপডেটঃ ২:২০ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৩, ২০১৯

ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতের মাটিতে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট, কৃত্রিম আলোয় প্রথমবার টেস্ট খেলছে বাংলাদেশও। কিন্তু বাংলাদেশ প্রথমদিনটা খেলেছে যাচ্ছেতাই। দেখে নেওয়া যাক আজকের দিনে মাঠের উল্লেখযোগ্য ঘটনা:

কোহলি- রাহানেতে দিন শেষ ভারতের
চেতেশ্বর পুজারার বিদায়ের পর অজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে মিলে ভারতকে এগিয়ে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। দাঁড়িয়ে গেছে দুজনের জুটি। ভারত এ দিন হারায়নি আর কোনো উইকেট। কলকাতা টেস্টের প্রথম দিন শেষেই এগিয়ে গেছে তারা ৬৮ রানে।

বাংলাদেশের ১০৬ রানের জবাবে ভারত দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১৭৪ রানে। ৫৯ রানে দিন শেষ করেছে কোহলি, রানে রাহানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৩৭।

কোহলির ফিফটি
পুজারা আউট হওয়ার ওভারেই দারুণ এক পুল শটে বিরাট কোহলি স্পর্শ করলেন ফিফটি। ভারত অধিনায়ক তার ২৩তম টেস্ট ফিফটি পেলেন ৭৬ বল খেলে।

পুজারার ফিফটি ও আউট
এমনিতে থিতু হয়ে গেলে বড় স্কোর করেন যিনি, সেই চেতেশ্বর পুজারা আবার আউট হলেন ফিফটি পেরিয়েই। দারুণ ডেলিভারিতে তাকে ফিরিয়ে ইবাদত হোসেন পেলেন দ্বিতীয় উইকেট।

এই স্পেলে দারুণ বোলিং করছিলেন ইবাদত। ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলেছেন কয়েকবার। সেই ধারাবাহিকতায়ই পেলেন উইকেট। অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে পিচ করা ক্রস সিম ডেলিভারিটি বাড়তি লাফিয়ে পুজারার ব্যাটে ছোবল দিয়ে যায় স্লিপে। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ নেন সাদমান ইসলাম।

আগের ম্যাচে ৫৪ রানের পর পুজারা এবার ফিরলেন ১০৫ বলে ৫৫ করে।

কোহলির রেকর্ড
রেকর্ডে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে বিরাট কোহলি স্পর্শ করলেন নতুন মাইলফলক। ৩২ রানের সময় ছুঁয়ে ফেললেন অধিনায়ক হিসেবে ৫ হাজার টেস্ট রান।

মাত্র ৮৬ ইনিংস লেগেছে তার অধিনায়ক হিসেবে ৫ হাজার রান করতে, টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম। ৯৭ ইনিংসের আগের রেকর্ড ছিল রিকি পন্টিংয়ের।

জীবন পেলেন রোহিত
রোহিত শর্মাকে ফেরানোর বড় একটি সুযোগ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। সহজ ক্যাচ ছাড়লেন আল আমিন হোসেন, আগেও যিনি অনেক ম্যাচে ক্যাচ ছেড়ে ভুগিয়েছেন দলকে।

আবু জায়েদের শর্ট বল পুল করেছিলেন রোহিত, টাইমিং হয়নি ঠিকমতো। বল যায় ফাইন লেগে সোজা আল আমিনের কাছে। সহজ ক্যাচ। কিন্তু দুই বারের চেষ্টায়ও বল জমাতে পারলেন না হাতে। রোহিত বেঁচে গেলেন ১২ রানে।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ইডেন গার্ডেন্সেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন আল আমিন। এরপর দলের বাইরে ছিলেন দীর্ঘ সময়।

কনকাশন
টেস্টের প্রথম দিনে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন নাঈম হাসানও। তার বদলি হিসেবে নেমেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

লিটনের মতোই ব্যাটিংয়ের সময় মোহাম্মদ শামির বল লেগেছিল নাঈমের হেলমেটে। পরে অবশ্য ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন নাঈম। রান করেছেন ১৯। পরে হয়তো তাকে নিয়ে আর ঝুঁকি নিতে চায়নি দল।

‘কনকাশন’ বদলির নিয়ম চালুর পর এই প্রথম বদল করা হলো কোনো বোলারকে। কোনো দলের এক ইনিংসে দুইজন বদলিও হলো প্রথমবার । লিটনের বদলে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে এর মধ্যেই ব্যাটিং করেছেন বদলি নামা মেহেদী হাসান মিরাজ।

ব্যর্থ মায়াঙ্ক
আগের টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ২৪৩ রানের ইনিংস খেলা মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে এবার দ্রুত ফেরাতে পারল বাংলাদেশ। ৫ বছর পর টেস্টে ফেরা আল আমিন হোসেন বাংলাদেশকে এনে দিলেন প্রথম উইকেট।

১৪ রানে ফিরলেন মায়াঙ্ক।

বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ টিকতে পারেনি দ্বিতীয় সেশনের অর্ধেক পর্যন্তও। কেবল ৩০.৩ ওভারেই গুটিয়ে গেছে ১০৬ রানে। অভিষেকে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ৯১ রানের পর এটিই ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর।

শুন্য রানের মিছিল

তিন-চার-পাঁচে নামা ব্যাটসম্যান ফিরেছেন শূন্য রানে। ওপেনিংয়ে সাদমান দলের সর্বোচ্চ ২৯ রান করলেও খেলতে পারেননি খুব স্বচ্ছন্দে। ভালো খেলছিলেন কেবলমাত্র লিটন দাস। কিন্তু শামির বল হেলমেটে লাগার পর মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার ‘কানকাশন’ বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ পারেননি তেমন কিছু করতে।

যথারীতি ভারতের তিন পেসারই ছিলেন দুর্দান্ত। তিন জনের মধ্যে সফলতম ছিলেন ইশান্ত। ২২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট, দেশের মাটিতে তার সেরা বোলিং এটিই।

বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৩০.৩ ওভারে ১০৬ (সাদমান ২৯, ইমরুল ৪, মুমিনুল ০, মিঠুন ০, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৬, লিটন ২৬ (আহত অবসর), নাঈম ১৯, ইবাদত ১, মিরাজ ৮, আল আমিন ১*, আবু জায়েদ ০; ইশান্ত ১২-৪-২২-৫, উমেশ ৭-২-২৯-৩, শামি ১০.৩-২-৩৬-২, জাদেজা ১-০-৫-০)।

শেষ উইকেট পেলেন শামি

আবু জায়েদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করে দিলেন মোহাম্মদ শামি। স্লিপে রোহিত শর্মার হাত ফসকে আসা বল ক্যাচে পরিণত করলেন চেতেশ্বর পুজারা। টেস্টে তার ৫০তম ক্যাচ। শূন্য রানে আউট হলেন আবু জায়েদ, বাংলাদেশ ইনিংসের চতুর্থ শূন্য।

ইশান্তের পঞ্চম

সতীর্থের ব্যর্থতার ভীড়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করছিলেন নাঈম হাসান। দুর্দান্ত লেগ কাটারে তার স্টাম্প উপড়ে দিলেন ইশান্ত শর্মা। পূর্ণ করলেন নিজের ৫ উইকেট।

টেস্টে দশমবার ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন ইশান্ত। তবে দেশের মাটিতে মাত্র দ্বিতীয়বার। আগেরটি ছিল সেই ২০০৭ সালে, পাকিস্তানের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে।

সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না মিরাজ

লিটনের বদলি হিসেবে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। ইশান্ত শর্মাকে চতুর্থ উইকেট উপহার দিয়ে ফিরলেন তিনি ৮ রানেই।

লিটনের বদলি মিরাজ

‘কনকাশন’ বদলি হিসেবে লিটনের জায়গায় ব্যাট করতে নামলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যদিও নিয়মে আছে, কারও বদলি নামাতে হলে একই ধরনের ক্রিকেটার হতে হবে। মিরাজ এমনিতে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান বা কিপার-ব্যাটসম্যান নন। তাই মিরাজকে খেলতে হবে স্রেফ ব্যাটসম্যান হিসেবে।

আবার ব্যর্থ ইমরুল

একই ওভারে আবার ইমরুল কায়েসকে আউট দিলেন আম্পায়ার। এবার এলবিডব্লিউ। সাদমানের সঙ্গে পরামর্শ করে ইমরুল রিভিউ নিলেন আবার। তবে এবার রক্ষা হলো না। আউট হলেন ইমরুল, বাংলাদেশ হারাল একটি রিভিউও।

সুইং খুব বেশি না পাওয়ায় হয়তো ইশান্ত চেষ্টা করছেন কাটার করার। রাউন্ড দা উইকেটে করা বলটি অনেকটা শাফল করে খেলতে চেষ্টা করেছিলেন ইমরুল। কিন্তু বল পিচ করে ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে আরেকটু ভেতরে ঢুকে লাগে পায়ে। খালি চোখেই মনে হচ্ছিল আউট, রিভিউয়ে সেটিই নিশ্চিত হয়েছে। ১৫ বলে ৪ রান করে আউট হলেন ইমরুল।

বাজল শুরুর ঘণ্টা

গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচের জন্য ইডেন গার্ডেন্সের ঘণ্টাকেও সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। সেই ঘণ্টা বাজানোর দায়িত্বেও ছিলেন বিশেষ দুজন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘণ্টা বাজিয়ে ছড়িয়ে দিলেন টেস্ট শুরুর বার্তা। দুইজনের পাশে ছিলেন ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের দুই প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি ও নাজমুল হাসান। মাঠে দেখা গেল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাদের সঙ্গে ছিলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারকেও।

দুই দলের সঙ্গে পরিচিত হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কথা বলতেও দেখা গেল তাকে।

HostGator Web Hosting