| |

সর্বশেষঃ

যমুনায় বিলীন হচ্ছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ি এলাকা

আপডেটঃ ৪:২২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের চিকাজানি ইউনয়নের খোলাবাড়ী এলাকায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে গত তিন মাসে ২৫০টি বসতবাড়ী, অন্তত: ১৫০ একর ফসলি জমি ও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন স্থানীয় বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা কমপ্লেক্সের ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা। সরজমিনের গিয়ে জানা যায়, যমনুা নদী তীরবর্তী দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী ইউনিয়নে বিগত তিন মাস ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি, ১৫০ একর ফসলি জমি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় খোলাবাড়ি চর উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়ী আদর্শ গ্রাম, মাদরাসা, খোলাবাড়ি বাজার জামে মসজিদ ও খোলাবাড়ি বাজারের প্রায় ১০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাজারের অর্ধেকের বেশি অংশে এখন যমুনা নদী। খোলাবাড়ীর চর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৩ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান চলছে বাজরের একটি খোলা মাছের শেড ঘরে। আর খোলাবাড়ীর চর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৪৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান চলছে অন্য একটি সবজি বিক্রির খোলা শেড ঘরে। বসতবাড়ি আর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র জীবন যাপন করছে। বসতবাড়ি আর ফসলি জমি হারিয়ে অনেকে বেকার হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে নদী ভাঙন আরও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ভাঙনে বাড়ি-ঘর ছাড়া হয়েছে ইমরান, সাফি, রোকন, পল্লী চিকিৎসক নূর মোহাম্মদ, আব্দুস সালাম, আব্দুর রহিম, শাহ আলম, মালেক, মানিয়াসহ অনেকেই। ঘর-বাড়ি ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বাহাদুরাবাদ নৌ থানাসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে। এ ভাঙন অব্যহত থাকলে আর ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে খোলাবাড়িসহ চারটি এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বিলীন হয়ে যাবে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীণ বাহাদুরাবাদ নৌ-থানাসহ ইদ্রিসিয়া দারুল উলুম কাওমী মাদ্রাসা, চর মাগুরী ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজারের অবশিষ্ট অংশ। এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙনরোধের দাবি জানান। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমার তিন একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব। এবারের ভাঙনে শেষ সম্বল বসতবাড়িটাও নদীগর্ভে গেছে। পরিবার নিয়ে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আর জিনিসপত্র যা কিছুই আছে তা নৌ থানায় রেখেছি।’ মনিরুজ্জামান রিপন জানান, তার দুটি দোকান ছিলো। দুই মাস আগে একটি দোকান যমুনায় বিলীন হয়েছে। তার অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙন বন্ধ না হলে তার আরও একটি দোকান ভেঙ্গে যাবে।’ গৃহিনী তামান্না জানান, সবকিছু হারিয়ে তার স্বামী এখন ঢাকায় রিকশা চালায়। বাড়িভিটায় দুটি ঘরের মধ্যে একটি ঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে।’ রেজাউল করিম জানান, তার ফসলি জমি অনেক আগেই নদী শেষ করছে। বসতবাড়ির বেশি অংশ নদীতে চলে গেছে। একটি ঘরে কোনো রকমে বউ-বাচ্চা নিয়ে জীবন-যাপন করছি।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ‘এলাকার লোকজনের অবশিষ্ট সম্পদ রক্ষার জন্যে হলেও সরকার একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।’ খোলাবাড়ী এলাকায় যমুনার ভাঙন প্রসঙ্গে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোলাইমান হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘শুকনো মৌসুমে নদীর এমন ভাঙন জীবনে দেখি নাই। ভাঙনের খবর আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে বলেছেন যে, খোলাবাড়ি থেকে ফুটানি বাজার পর্যন্ত সড়কবাঁধ নির্মাণের একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। তিনি চলমান ভাঙন রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলাবাড়ি এলাকায় একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন।’ এ প্রসঙ্গে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জনকণ্ঠকে বলেন, ‘যমুনা নদল খোলাবাড়ী এলাকায় ভাঙনরোধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ভাঙনরোধে একটি বড় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধী রয়েছে। খুব দ্রুত প্রকল্পটি পাশ হয়ে এলে যমুনা নদী ভাঙনরোধে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

HostGator Web Hosting