| |

সর্বশেষঃ

কারণ ছাড়াই বাড়ছে চাল-তেলের দাম

আপডেটঃ ৩:১৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই মাস ধরে পেঁয়াজের বাজার বেসামাল থাকার পর এবার ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম। কদিন ধরেই ধানের দাম কমছে স্থানীয় বাজারে। অথচ মিলারদের কারসাজিতে তিন সপ্তাহ ধরে সব ধরনের চাল কেজিতে ৬-১০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতির দিকে। এরপরও দেশের বাজারে লিটারে ৫-১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই মনে করে, এভাবে আকস্মিক দাম বৃদ্ধির পেছনে যেমন অসাধু ব্যবসায়ীরা দায়ী তেমনি দায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। আর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্ষম না হলে পণ্যের দামের লাগাম টানা সম্ভব নয় বলে মত অর্থনীতিবিদদের।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, উৎপাদন ও আমদানি বাড়লে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে হবে। পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও রামপুরা কাঁচাবাজারে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ৭৮-৮০ টাকা। পাম অয়েল লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ দিন রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। এ ছাড়া বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম অয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার কারণে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে এ তথ্য সত্য নয় বলছে সরকারি সংস্থা ট্যারিফ কমিশন। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আর রবিবার ‘বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডাটা’ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম গত তিন মাসে প্রতি টন ৫৮৫-৫৯১ ডলারে ওঠানামা করছে। আগস্ট মাসে প্রতি টন সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৭৯৩ ডলার। যা অক্টোবরে ৭৩১ ডলারে বিক্রি হয়। এ সময়ে সয়াবিনের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে ৬২ ডলার।

গতকাল রবিবার রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ দিন প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা, যা তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৪২-৪৪ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হয়েছে ৫৫-৫৮ টাকায়, যা তিন সপ্তাহ আগে ছিল ৪৪-৪৮ টাকা। বিআর-২৮ বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকায়, তিন সপ্তাহ আগে যা ছিল ৩৪-৩৫ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকা, তিন সপ্তাহ আগে তা বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৩২-৩৩ টাকা।

এ দিকে চালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যেই চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং তিনটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি বাজার মনিটরিং করবে।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ খবর জানানো হয়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যে কেউ কন্ট্রোলরুমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ কেন্দ্রের ফোন নাম্বার- ০২-৯৫৪০০২৭ এবং ০১৬৪২-৯৬৭৭২৭।

তবে হঠাৎ করেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

এফবিসিসিআইর সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, কখনো কখনো কেউ অনৈতিকভাবে সুবিধা নেয় বলেই আমাদের দেশে এসব হচ্ছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এসব করে না। যারা জড়িত তারাই সব সময় জড়িত থাকে। তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই মনে করে, বাজারে পণ্য সরবরাহে সঠিক সময়ে যেমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার, তেমনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা আগ বাড়িয়ে নজরদারি বাড়ানোর যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও হিতে-বিপরীত হয়েছে।

HostGator Web Hosting