| |

সর্বশেষঃ

নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের মূল্য

আপডেটঃ 4:10 pm | December 07, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক : পেঁয়াজের মূল্য আরও বেড়েছে। আমদানি ও দেশি—দুই ধরনের পেঁয়াজের মূল্যই বেড়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর মানিকনগর বাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৩২ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৫২০ শতাংশ। তবে এক মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৯১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে এই পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৬২৩ শতাংশ।

টিসিবি বলছে, ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। এক বছর পরে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে।

তবে, রাজধানীর বাজারগুলোতে এরচেয়েও বেশি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে। ভালো পেঁয়াজ (দেশি) ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। চীনা পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

এদিকে, এলাচের প্রতি কেজিতে মূল্য বেড়েছে ১০০ টাকা। আর ডালের কেজিতে মূল্য বেড়েছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে এলাচ ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, সেই এলাচ শুক্রবার প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে। আর গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজির (দেশি) ডাল এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা কেজি দরে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘পেঁয়াজের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি থাকতে পারে। তবে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে মূল্য বাড়বেই। নতুন পেঁয়াজ উঠলে কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু নতুন পেঁয়াজ আসার পরও যদি মূল্য না কমে, তাহলে হয়তো কিছুই বলার থাকবে না।’

যদিও পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকায় টিসিবি এখন প্রতিদিন ৫০টি ট্রাকে ১ হাজার কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে। টিসিবি’র পেঁয়াজ অবশ্য ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, শীতকালীন শাকসবজির সঙ্গে দেশি পেঁয়াজও বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কমেছে শাকসবজির মূল্য। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন শাকসবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শালগম, শিমসহ প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোয় কিছু কিছু সবজির মূল্য কমেছে। শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে এখন কাঁচা টমেটোর পাশাপাশি দেশি পাকা টমেটোও এসেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা। বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুলা প্রতিকেজি ২০-৩০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। করলা ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছুটা কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় আর লেয়ার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের মতোই গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

HostGator Web Hosting