| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

শীতকালীন রোগের প্রকোপ : হাসপাতালে কমছে না রোগীদের ভিড়

আপডেটঃ ১:২২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তীব্র শীতের কারণে সব বয়সের নারী-পুরুষ-শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন। ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার হার বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বৃদ্ধ এবং শিশুরা। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা চার হাজার এমনকী পাঁচ হাজারে গিয়ে ঠেকছে। তবে সেটা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে সরকারি এই সংস্থা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, গত ১ নভেম্বর থেকে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সারাদেশে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৩৯ জন; মারা গেছেন ২০ জন। ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৮ জন; মারা গেছেন চার জন। অন্যান্য অসুস্থতায় ( জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ ও জ্বর) আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ১১০ জন আর মারা গেছেন ৩০ জন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বর্হিবিভাগে ভিড়। কোলে করে বর্হিবিভাগের সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, কোলের দেড় বছর বয়সী নাতি নিলয় ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। তেজগাঁয়ের সাতরাস্তা থেকে তিনি আজই এসেছেন এই হাসপাতালে। এখনও ডাক্তার দেখাতে পারেননি। ভিড়ের কারণে লাইন বড়-মন্তব্য করেন তিনি।

হাসপাতালের ভেতরে ওয়ার্ডে ঢুকতেই দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বেডে রোগী, প্রায় সবার হাতেই স্যালাইন লাগানো। সাভার থেকে আসা সুরাইয়া জামান বলেন, ছয়মাস বয়সী মেয়েটাকে এত সাবধানে রেখেও শেষ রক্ষা হলো না। সেই ডায়রিয়াতেই আক্রান্ত হলো। তবে গত ৯ জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হবার পর থেকে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আর একদিন পর্যবেক্ষণে রাখবেন তারা, এরপর ছেড়ে দেবেন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে মারা গেছে ১৩ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নবজাতকসহ ভর্তি হয়েছে দুই শতাধিক শিশু। বর্তমানে নবজাতকসহ ৫০৩ জন শিশু এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা. বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শীতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে নবজাতকসহ শিশুরোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তীব্র শীতে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া দেখা দেওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।’

নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে আগের চেয়ে ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেডের তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আবু সফি মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাকিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডায়রিয়া ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে, যার বেশিরভাগই শিশু। ছয় বেডের ধারণ ক্ষমতার এই ওয়ার্ডে ১২টি বেড দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হলেও রোগীর অতিরিক্ত চাপে মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এখানে নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৯১ জন, ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন। আর গত ডিসেম্বর মাসে নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল ১৫৬ জন আর ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয় ১৫৯ জন। এর ভেতরে নভেম্বর মাসে মারা গিয়েছে ২৬ জন, ডিসেম্বরে ৪৪ জন। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মারা গিয়েছে চার জন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ বলেন, ডায়রিয়াতে এই হাসপাতালে কোনও শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে নিউমোনিয়াতে ৭২ জন মারা গেলেও পিউর নিউমোনিয়াতে মারা গেছে ছয়জন। বাকি শিশুদের মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ার সঙ্গে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হবার কারণে বলছেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের অসুখে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কখনও চার হাজার আবার কখনও পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগই বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৬৪ জেলা হিসেবে রোগীর সংখ্যা সেরকম বেশি নয় উল্লেখ করে ডা. আয়শা আক্তার বলেন, এর আগে সব জেলা থেকে এই হিসাব আসতো না, যার কারণে চলতি বছর এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। তবে আগের চেয়ে কিছুটা হলেও রোগী বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারে শীতের শুরুটা হয়েছে নভেম্বর মাস থেকে, এরকম শীত অনেক বছর হয়নি। তবে এতে করে আতঙ্কিত হওয়া কিছু নেই বলে জানান তিনি।

HostGator Web Hosting