| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহে জীবন দিতে হলো পুলিশ কন্সটেবল সুইটি’কে : স্বামী আটক

আপডেটঃ ১১:২৯ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : মাত্র ৫ মাস ৫ দিনের দাম্পত্য জীবনে স্বামী পুলিশ কন্সটেবল (নং-১৮৪৬ বিপি-৯৮১৭১৯৮৩৬৭) মোঃ হাফিজ আল আসাদের অসদাচরন, চলাফেরায় অসঙ্গতি, অধিকাংশ রাত বাইরে কাটানো ও তারই ঔরষের গর্ভ নষ্ট করতে অব্যাহত চাপ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী পুলিশ কন্সটেবল (নং-১৯৪১, বিপি-৯৮১৭১৯৭২৮৮) জবা আক্তার সুইটি (২১) কে অকালে জীবন দিতে হলো। জবা আক্তার সুইটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা অথবা অমানসিক নির্যাতনে তাকে ফাঁসিতে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি গত ৭ ফেব্র“য়ারী (শুক্রবার) ময়মনসিংহ নগরীর কাশরস্থ ১৬/খ, করোনেশন রোড (বউবাজার রোড) ত্রিতল ভবনের নীচতলার ভাড়া বাসায় ঘটেছে। বেলা অনুমান সোয়া ১১ টায় এই নির্মম হত্যা বা আত্মহত্যার ঘটনার পরই নিহতের স্বামী কন্সটেবল মোঃ হাফিজ আল আসাদ তারই মামা রেলওয়ে পুলিশের কন্সটেবল নং-৩০৩ (বিপি-৮২০১০৫৩২১৭) জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) ও মামী ময়মনসিংহ কোর্টে কর্মরত নারী কন্সটেবল নং-১৪৭১ (বিপি-৯২১১১২৮৬৪৫) ঐশী’র সহায়তায় ঝুলন্ত অবস্থা হতে নিজ স্ত্রী কন্সটেবল জবা আক্তার সুইটির লাশ নীচে নামিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার দুপুর ১ টায় জবাকে মৃত ঘোষণা করেন। কন্সটেবল জবার অপমৃত্যুর সংবাদ পেয়েই কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল (কাশরের সেইবাসায়) পরিদর্শন করেন। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠান। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিঃ ডিআইজি আক্কাছ উদ্দিন ভূঁঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান, অতিঃ পুলিশ সুপার আল-আমীন, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম, ডিবি ওসি শাহ কামাল আকন্দসহ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতালে ও মর্গে নিহত কন্সটেবল জবা আক্তার সুইটি কে দেখতে যান। এদিনেই ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় লাশ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। বাদ এশা এখানেই প্রথম নামাজে জানাযার পর পুলিশী স্কটে পুলিশের গাড়িতেই জবার লাশ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের পিত্রালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে পরদিন গতকাল শনিবার (৮ ফেব্র“য়ারী) বেলা ১০ টায় দ্বিতীয় নামাজে জানাযার পর নিকটস্থ পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগেই ৭ ফেব্র“য়ারী (শুক্রবার) দিবাগত রাতেই নিহতের ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক বাদী হয়ে ভিকটিমের স্বামী মোঃ হাফিজ আল আসাদ কে আসামী করে কোতোয়ালী মডেল থানায় বাঃদঃ বি’র ৩০৬ ধারায় মামলা নং-৩০ তাং-০৭/০২/২০২০ ইং দায়ের করেন। এব্যাপারে কোতোয়ালী মডল থানার ওসি জানান, ভিকটিম ও আসামী (স্বামী-স্ত্রী) দু’জনেই ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় বিবাদী মোঃ হাফিজ আল আসাদকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী মামলা চলবে।
সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, আসামী মোঃ হাফিজ আল আসাদ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনের ব্যান্ড পার্টিতে কর্মরত বলে সে বিস্তর সময় পেতো ঘুরাফেরার। সে একজন জুয়াড়ী ও নেশাখোরও বটে। প্রতিরাতেই সে জুয়া ও নেশার আড্ডায় মজে থাকতো। বাসায় ফিরতো সকালে। বাসায় ফিরেই যতসব দুর্ব্যবহার স্ত্রীর উপর ঝাড়তো। ওর ব্লাড পরীক্ষা করালে নেশার আলামত ধরা পড়বে। আর সুষ্ঠু তদন্ত চালালে জুয়ার আড্ডায় মশগুল থাকার বিষয়টিও বেরিয়ে আসবে। এরূপ স্বভাবের লোক কর্তৃক যে কোন স্বজনকে হত্যা করা অস্বাভাবিক নয়।

HostGator Web Hosting