| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

বিপথগামীদের সুপথে আনতে সংস্কৃতিচর্চায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

আপডেটঃ ৪:১১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিপথগামী শিশু, কিশোর, যুবকদের সুপথে আনতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সারাদেশে মাসব্যাপী নাট্যোৎসব উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান যুগে অনেক সময় দেখা যায় মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ একটি পরিবার, একটি সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

‘শিশু কিশোর থেকে শুরু করে যুব সমাজ তাদের যদি আমরা সঠিক পথে নিয়ে আসতে চাই তাহলে খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা এসব দিকে যত বেশি তাদের আমরা সম্পৃক্ত করতে পারবো ততই আমরা তাদের সুপথে আনতে পারবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমি রাজনীতি করি, বক্তৃতা দেই। বক্তৃতা মানুষের কাছে পৌঁছে এটা ঠিক। কিন্তু একটি গানের মধ্যে দিয়ে বা কবিতার মধ্যে দিয়ে বা একটি নাটকের মধ্যে দিয়ে অনেক না বলা কথা বলে দেওয়া যায় এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। মানুষের অনেক দাবি-দাওয়া তুলে ধরা যায় এই নাটকের মধ্যে দিয়ে, গান ও কবিতার মধ্য দিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি একটি দেশকে যখন আমরা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তখনও কিন্তু আমাদের এই সংস্কৃতিচর্চাটা একান্তভাবে জরুরি।

‘তাছাড়া সংস্কৃতি বিকাশ একটি জাতির বৈশিষ্ট্য। আর সে বৈশিষ্ট্যটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সবাই মিলে সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে দিয়েই কিন্তু একটি জাতির স্বকীয়তা তুলে ধরা যায়, প্রকাশ করা যায়, প্রচার করা যায়।’

মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং মুজিববর্ষ সামনে নিয়ে আমি মনে করি এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা বক্তব্য দিয়ে মানুষের কাছে যতটা পৌঁছাতে পারবো, তার চেয়ে অনেক বেশি পৌঁছাতে পারবেন আপনারা এই সংস্কৃতিকর্মীরা। আমার মনে হয় এই নাট্যোৎসবের মধ্যে দিয়েই।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় সংস্কৃতিচর্চাকে গুরুত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নিজে উদ্যোগ নিয়ে অনেক সময় নাটক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো করতো।

বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম, প্রতিকূল পরিবেশে গান-কবিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্শাল ল জারি হয়, যখন রাজনীতি বন্ধ থাকে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মীরাই সামনে এগিয়ে আসে।

নাটক দেখার স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, নুরুলদীনের সারাজীবন নাটকটা যখন মহিলা সমিতি নাট্যমঞ্চে হতো…কয়েকবারই আমি সেখানে…আমি কাউকে না বলে নিজে টিকিট কিনে…সেখানে চুপচাপ গিয়ে বসেছি। যখনই নাটক শুরু হবে তখনই সেখানে চলে গিয়েছি। নাটকটা অন্তত আমি ২/৩ বার দেখেছি। আর যতবার দেখেছি আমি চোখের পানি রাখতে পারিনি।

‘আরো সুন্দর সুন্দর নাটক হওয়া দরকার। আরো বেশি চর্চা হওয়া দরকার।’

নাটকের ওপর সেন্সর প্রথা তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কিন্তু এই নাটকের উপর অনেক ধরনের কালা-কানুন জারি করেছিল। সেই কালাকানুনগুলো ৯৬ সালে সরকারে এসে কিন্তু আমরা তুলে নেই। সবাই যেন স্বাধীনভাবে নাটক করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। নাটকের ওপর যে সেন্সর করা হতো সেই সেন্সর প্রথাটা সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছিলাম। নাটক তার স্বাধীন সত্তা নিয়ে চলবে সেজন্যই আমরা এটা তুলে দেই।

ঢাকা, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রামে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও কনফারেন্সে বিভিন্ন নাট্যগ্রুপের পরিবেশিত কয়েকটি নাটক উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

HostGator Web Hosting