| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

এনজিওগ্রাম, রিং-পরানো,পেস-মেকারসহ বাইপাস সার্জারির সুবিধা পাবে রোগীরা

প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পর ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চালু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব

আপডেটঃ ২:৪৩ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : অবশেষে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫৭ বছর পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে চালু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার কোন অতিথি ছাড়াই হাসপাতালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাথল্যাব উদ্বোধন করবেন। মেডিক্যাল, ইন্টারভেনশন ও সার্জারি ধরনের সেবা মিলবে এই ক্যাথল্যাব থেকে-জানান সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা, এম এ বারী জনকন্ঠকে জানান, কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব চালু হলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষার পর রোগীদের নামমাত্র ফীয়ে রিং পরানো, পেস-মেকার স্থাপন, হার্টের ভাল্ব রি-পেয়ারিংসহ প্রয়োজনে বাইপাস সার্জারি করা যাবে। ক্যাথল্যাব চালু করতে ইতোমধ্যে ১০ বেডের একটি ওয়ার্ডসহ সকল আয়োজন ও প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিএমএ,ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান ভুইয়া জানান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহবাসীর জন্য এটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদ জনকন্ঠকে জানান, হাসপাতালে ওয়ানষ্টপ সার্ভিস ও কিডনী রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পর ক্যাথল্যাব চিকিৎসা সেবার সুবিধা চালু ময়মনসিংহ বিভাগ ও এর আশপাশের রোগীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনবে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীদের বিনামুল্যে শতভাগ ওষুধ সরবরাহসহ এসব সুবিধা সরকারের রোগীবান্ধব চরিত্রকে দৃশ্যমান করে তুলছে। এজন্য তিনি সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষীয় সূত্র জানায়, নতুন হাসপাতাল ভবনের ৪র্থতলার হৃদরোগ বিভাগে চালু হচ্ছে এই ক্যাথ ল্যাব। ইতোমধ্যে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব স্থাপনসহ পাশে একটি ১০ বেডের পোষ্ট ক্যাথল্যাব ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা কর্ণার। করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ এবং হৃদরোগ বিভাগের আলাদা ইউনিট ও ওয়ার্ডের পাশে একই ফ্লোরে বসানো হয়েছে এই ক্যাথল্যাব। দশটি বিছানার ক্যাথল্যাব ওয়ার্ডের প্রতিটি বিছানার পাশেই রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মনিটরসহ এনজিওগ্রাম করার পর রোগীদের প্রয়োজনীয় সাপোর্টের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি। হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে রোগীদের ক্যাথল্যাবে এনজিওগ্রাম করার পর হার্টের ব্লক কিংবা ছিদ্র ধরা পড়লে প্রয়োজনে রিং পরানো, পেস মেকার স্থাপন কিংবা বাইপাস হার্ট সার্জারি পর্যন্ত করার সুবিধা থাকছে হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে। পর্যাপ্ত কার্ডিওলজিষ্ট ও নার্স টেকনেশিয়ান ছাড়াও এজন্য ইন্টারভেনশনারিষ্ট অধ্যাপক ডা. আবুল হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও একজন ইন্টারভেনশনারিষ্ট নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। পুরোদমে ক্যাথল্যাব চালু হলে শিশুদের হাটের জন্মগত সমস্যা, মোটা ও চিকন ভাল্বের সমস্যা সমাধানসহ পেস মেকার স্থাপন ও হার্টের বাইপাস সার্জারি করা সম্ভব হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, সরকার নির্ধারিত নামমাত্র ফীয়ে এসব চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে রোগীদের। বিগত ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এক হাজার শয্যার রেফারেল চরিত্রের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগেই প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৩ শতাধিক রোগী। বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদের মেয়াদেই হাসনাতালের জরুরি বিভাগে চালু করা হয় বহুল প্রত্যাশিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস। হাসপাতালের অন্ত বিভাগে নামমাত্র ফীয়ে চালু করা হয় ব্যয়বহুল কিডনী ডায়ালাইসিস চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। সর্বশেষ সকল জল্পনা কল্পনা আর শঙ্কাকে পাশ কেটে চালু করা হচ্ছে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব চিকিৎসা সেবা। হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন কিশোরগঞ্জের আব্দুল বারেক(৫৫) জানান, হৃদরোগে আক্রান্তদের এখন থেকে আর ঢাকায় যেতে হবে না। একই ওয়ার্ডের হার্টের রোগী বিমলের স্বজন মিনতি রানী এজন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

HostGator Web Hosting