| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

আম নিয়ে এবার দুশ্চিন্তায় চাষিরা

আপডেটঃ 2:49 pm | May 08, 2020

বিশেষ সংবাদদাতা : আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের হাসি কেড়ে নিয়েছে করোন। এমনিতেই এবার ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা তার ওপর রয়েছে বাজারজাতকরণের শঙ্কা। হতাশ হয়ে আম চাষিরা বন্ধ করে দিয়েছেন আমের পরিচর্যাও। যদিও, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৮ মে) এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ‘গত ১৫ থেকে ১৭ মার্চের তিন দিনের বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ায় ব্যাপকভাবে নষ্ট হয় মুকুল। ফলে মুকুল থেকে কাঙ্ক্ষিত গুটি আসেনি। সব মিলিয়ে জেলায় এবার ২৫ থেকে ৩০ ভাগ আম উৎপাদন হতে পারে।’

জেলায় সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। সরেজমিনে উপজেলার আমবাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ বাগানেই ফলন গতবারের তুলনায় অনেক কম। উপজেলা একাডেমি মোড়ের একটি আম বাগানে কথা হয় শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শামীম খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এবার মুকুলের পরিমাণ কম ছিল। তার ওপর বৃষ্টি ও বিরুপ আবহাওয়ার কারণে মুকুলের ক্ষতি হয়েছে অনেক। যেসব চাষি বাগানের পরিচর্যা করেছিলেন, কেবল তাদের বাগানেই আম আছে।’

পাশের আরেকটি আম বাগানে কথা হয় আম চাষি রুহুল আমিন ও আহসান হাবীবের সঙ্গে। তারা জানান, গত কয়েকবছর দাম না পেয়ে বেশিরভাগ আম চাষিই পুঁজি হারিয়েছেন। তারা এবার যথাযথভাবে বাগানের পরিচর্যা করেননি। তাই শিবগঞ্জে এবার ৩০ থেকে ৪০ ভাগের বেশি আমের ফলন হবে না।’

উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের কয়েকটি আম বাগান ঘুরেও দেখা যায় একই চিত্র। এছাড়া মৌসুমের এই সময় দেশের সবচেয়ে বড় কানসাট আম বাজার ও আড়তগুলোতে জমে ওঠে। এই সময় আমবাগান বেচাকেনাকে ঘিরে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেলেও এবার তা নেই।

কানসাট আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, ‘মৌসুমের এই সময়টাতে অন্যান্য বছর বাজারজাতকরণ ও পরিবহনে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে তৈরি থাকে। করোনার কারণে এবার সব বন্ধ রয়েছে। আড়তগুলো বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মৌসুমী শ্রমিকও। আড়তগুলোতে বাইরের ব্যাপারীরা চলে আসে আগাম বাগান কিনতে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। বাগান কেনা তো দূরের কথা ব্যাপারীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগও করেছে না। বর্তমানে চাষিরা বিভ্রান্তিতে রয়েছে; আদৌ আম বিক্রি হবে কিনা? ন্যায্যমূল্য পাবে কিনা? হতাশ হয়ে বাগানের পরিচর্যা ছেড়ে দিয়েছেন। গত বছর ২৫ মে থেকে আম পাড়ার ও বাজারজাতকরণের সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি কোনও মিটিংও করেনি।’

ভোলাহাট ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘ভোলাহাট উপজেলাতে আমের ফলনের অবস্থা খুবই খারাপ। এবার ২৫ থেকে ৩০ ভাগের বেশি ফলন হবে না।’

বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘দেশের সিংহভাগ সুস্বাদু ও উৎকৃষ্ট জাতের আম উৎপাদন হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। যার বাজার মূল্য দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা এবং এই শিল্পের সঙ্গে জেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষ জড়িত। আগামীতে মানুষের আম কিনে খাওয়ার মতো অবস্থা থাকবে কিনা সন্দেহ। তাই আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর জেলায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে এবং লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছর ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে সামনের দিনগুলোতে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এবার লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে। এছাড়া আমের ভালো ফলন পেতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শও অব্যাহত আছে।’

বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আম বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের বিষয়টি এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে জেলার উৎপাদিত আম সঠিকভাবে বাজারজাত হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে পারে। আম পরিবহনে রাস্তায় যাতে কোনও বাধার সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।’

HostGator Web Hosting