| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

ঝুঁকি নিয়েই মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শেরপুরে কৃষকরা

আপডেটঃ 3:56 pm | May 19, 2020

শেরপুর সংবাদদাতা : খাদ্য শস্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা শেরপুরের দুই লাখ ৮১ হাজার ৭৯০টি কৃষক পরিবার দিনব্যাপী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনার ঝুঁকি নিয়েই কাজ কের যাচ্ছেন তারা। এদিকে কৃষকদের সহযোগীতা করে যাচ্ছেন কৃষি বিভাগের ২১৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার সঙ্গে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আবাদি জমির পাশাপাশি অনাবাদী জমিতে ফসল ফলানোর পদ্ধতি সম্পর্কে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহিত কুমার দে জানান, এবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এ পর্যন্ত জেলার সদর উপজেলাসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নকলার কৃষদের নিয়ে পাঁচটি উঠান বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের বাড়ির উঠান, পুকুরপাড়, সড়কের পাশে, নদীর ধারে, বাঁধের ধারে এবং অনাবাদি জমি ফসল উৎপাদনের আওতায় আনতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। লক্ষমাত্রা অর্জনে এসব বৈঠক চলমান থাকবে।

তিনি জানান, জেলায় মোট আবাদী জমির পরিমাণ এক লাখ ছয় হাজার হেক্টর। চলতি মে মাসের মধ্যে কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলে শেষ করতে পারবে। এর পরপরই কৃষকরা আউশ ধান বপন শুরু করবেন। এবার চার হাজার ৪৭ হেক্টর জমিতে এ ধান রোপনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আউশ উৎপাদনে সরকার ইতোমধ্যে ৩০০০ কৃষককে প্রণোদনা বাবদ সার ও বীজ দিয়ে সহায়তা করেছে। এছাড়া জুন-জুলাই থেকে রোপা আমন বপন শুরু হবে। কিছুদিনের মধ্যে এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

উপ-পরিচালক জানান, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৫০০ মেট্রিকটন শাক-সবজি এবং ফলমূল পাওয়া যায়। বছর শেষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার মেট্রিকটন। তবে এবার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার মেট্রিকটন ধরা হয়েছে। সে জন্য অনাবাদি ও পতিত পড়ে থাকা এক হাজার ৫৬০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। কৃষকরা এখন গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, শশা, কচু, চালকুমড়া, পুইশাক, পটল, ঢেড়স, করলা, মিস্টিকুমড়া, কাকরোল, ডাটাসহ অন্য সকল কৃষি পণ্য উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া এ পর্যন্ত ৮০০ জন কৃষককে সবজি বীজ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ১২০০ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।

সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকার কৃষক আনোয়ার মিয়া ও সিরাজ বলেন, ‘ক্ষেত্র বিশেষে কৃষি কর্মকর্তারা ৫/৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে আমাদের কৃষি বিষয়ক পরামর্শ ও সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। তাদের পরিশ্রম দেখে আমরা উৎসাহিত হচ্ছি।’

তারা জানান, এবার পুকুরপাড় ও বাড়ির সামনের সড়কের পাশে ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও শশার আবাদ করেছেন তারা। এছাড়া বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত জমিতে লালশাক ও উন্নত জাতের ডাটা বুনেছেন।

ঝিনাইগাতীর হলদি গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ির উঠানের ফাঁকা জায়গায় লাল শাক বপন করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বিনামূল্যে বীজ দিয়ে গেছেন। এছাড়া আমি এবার মোট আট বিঘা জমিতে আউশ আবাদ করব। কৃষি কর্মকর্তারা সার এবং বীজের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন।’

নকলার বাউশা এলাকার কৃষাণী পারুল বেগম জানান, তার ৬০ শতাংশ জমিতে পেঁপের বাগান করেছেন তিনি। এর বাইরে আবাদযোগ্য তার অন্য কোন জমি নেই। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনায় ওই পেঁপে বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ঢেড়স আর লালশাক রোপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আরও লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

HostGator Web Hosting