| |

সর্বশেষঃ

আগামী ১৫ দিন করোনা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে

আপডেটঃ 2:57 pm | May 20, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিন যে হারে বাড়ছে, তা আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান।

তিনি বলেন, আমরা পিক সময়ের (সবোর্চ্চসীমা) কাছাকাছি চলে এসেছি। হয়তো ঈদের পর সেখানে পৌঁছে যাবো। আমাদের ল্যাবের সংখ্যা ও পরীক্ষার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতিদিন ১০ হাজারের কাছাকাছি পরীক্ষা হচ্ছে।

বুধবার (২০ মে) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, প্লাজমা থেরাপি নিয়ে বিশ্বের ৭টি দেশ কাজ করছে। যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন তাদের শরীর থেকে প্লাজমা নিয়ে কাজ করছে। আমরা সেটা করতে যাচ্ছি। প্লাজমা থেরাপির জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কাজ করছে। বর্তমানে প্লাজমা সংগ্রহ চলছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ৪৫ জন্য রোগীর ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করব। পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়া গেলে ঢাকাসহ সারা দেশের করোনা হাসপাতালে প্রয়োগ করা হবে। একজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা ২ জন রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, কয়েকটি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। দেশের ৫টি প্রতিষ্ঠান ওষুধ উৎপাদনে গেছে। এ পর্যন্ত ৪২টি ল্যাবে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে। সপ্তাহে সাতদিন তারা কাজ করছেন। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষা হচ্ছে।

হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে করোনা রোগীর জন্য ১১০টি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় সরকারি হাসপাতাল আছে ৯টি আর বেসরকারি আছে ৫টি। মোট ১৪টি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় করোনা রোগীর জন্য ৭/৮ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসুন্ধরা কনভেনশন সিটি হাসপাতালে কোনো সিরিয়াস রোগী যাবে না। বসুন্ধরা মূলত আইসোলেশন সেন্টারের কাজ করবে। তারপরও সেখানে পর্যাপ্ত বেড, অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে থাকা কোনো রোগীর পরিস্থিতি জটিল হলে তাকে করোনা হাসপাতালে নেওয়া হবে।

তামাকজাত দ্রব্য ও বিড়ি-সিগারেট উৎপাদন-বিক্রির বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, করোনায় আপৎকালীন তামাকজাত দ্রব্য ও বিড়ি-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ বা সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাকজাত দ্রব্য ও ধুমপান থেকে বিরত থাকতে বলেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকজাত পণ্য নির্মূল করা হবে।

আম্পানের কারণে দুর্যোগ সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৯৩৩টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১২১২টি, বরিশালে ৪১৮টি খুলনায় ৩০৩টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

HostGator Web Hosting