| |

সর্বশেষঃ

  • মুজিব বর্ষ

করোনা মহামারি

ময়মনসিংহে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেজি স্কুলগুলো বকেয়া বেতন আদায় করছে, অভিভাবকরা হতাশ

আপডেটঃ 8:29 pm | June 28, 2020

এম এ আজিজ, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : মহামারি করোনার ভয়ানক পরিস্থিতিও থামাতে পারেনি ময়মনসিংহের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কেজি স্কুলগুলোতে বানিজ্য। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানগণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণকে মোবাইল ফোনে ডেকে ডেকে গত কয়েক মাসের বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য বকেয়া আদায় করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকগণের অব্যাহত চাপে পড়ে না খেয়ে থেকেও ঋণ বা ধার করে প্রতিষ্ঠানের বকেয়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক করোনার মহামারিতে আর্থিকভাবে মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতিতে থাকায় তারা নিজেদের সন্তানদের বকেয়া বেতন দিতে না পারায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারি শুরু হলে বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনা সনাক্ত হয়। মার্চের শেষদিকে শুরু হয় লকডাউন। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারি ছুটি ঘোষণায় পাশাপাশি, সরকারি অফিস, আদালত, যানবাহন, লঞ্চ, ট্রেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদফায় সরকারি ছুটি বেড়ে গত ৩০ মে পর্যন্ত চলে। কর্মহীন আর বেকারের সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। এই সময়ে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজনের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিতে সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি ও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে। জুনের প্রথম থেকে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি না হওয়া এবং লকডাউন উঠে গেলেও মূলত মানুষের কর্মের পরিধি বাড়েনি। শুধুমাত্র সরকারি অফিসগুলোতে জরুরী কাজ, নির্ধারিত সময়ে জরুরী কেনাকাটা, এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পন্য পরিবহন ছাড়া আর কোন সুযোগ বাড়েনি। এ অবস্থায় মানুষ যেন আর্থিকভাবে আরো বেশি চাপে পড়ে। অনেকেই বাসা ভাড়া দিতে না পেরে বাসা ছেড়ে বাধ্য হয়ে গ্রামে পৈত্রিক ভিটায় চলে গেছেন।
শিক্ষা নগরী খ্যাত ময়মনসিংহ। এই নগরীতে সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট, ব্যাক্তিমালিকানাধীন অসংখ্য কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা ও কেজি স্কুল রয়েছে। যেন প্রতিযোগীতামূলকভাবেই গড়ে উঠে এই সকল প্রাইভেট ও ব্যক্তিমালিকানাধীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নগরীর একাধিক বাড়ি ভাড়া নিয়ে গাদাগাদি করে আবার কখনো দুই একটি রুমের মধ্যেই চালিয়ে আসছে কথিত প্রাইভেট স্কুল, কলেজ ও কেজি স্কুল। সেই সাথে আকাশচুম্বি বেতন আদায় করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা সুযোগ আর সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নিশ্চয়তা দিয়ে কেজির সাথে কোচিং চালিয়ে আসছে।
করোনার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হতে থাকায় এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন ঝুকির মধ্যে না ফেলতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধা রাখা হয়ে সরকারিভাবে।
সরকারি নির্দেশে দেশব্যাপী সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ক্লাস পরীক্ষা সব কিছুই স্থগিত। থেমে গেছে আগামী প্রজন্মের শিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞদের মতে জীবন আগে পরে অন্য সব।
টানা তিন মাসেরও বেশী সময় ধরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও শিক্ষা নগরীখ্যাত ময়মনসিংহের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, কেজি স্কুল ও কেজি সংলগ্ন কোচিং সেন্টারগুলোর কর্ণধারগণ শিক্ষা ব্যবসার নামে বকেয়া বেতন আদায়ে তাল-মাতাল হয়ে পড়েছে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ তাদের অভিভাবকদেরকে মোবাইল ফোনে ডেকে ডেকে বকেয়া পরিশোধে বাধ্য করছেন। নগরীর অসংখ্য অভিভাবকগনের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই দেনা করে সংসারের দায় মেটাচ্ছেন। আবার অনেকেই ঋণ করে বাসাভাড়া পরিশোধ করছেন। কোন ধরণের কাজ নেই। বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ অবস্থায় প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানগণ সহ শিক্ষকগণ যেভাবে বকেয়া পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে এতে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। এর পরও অব্যাহত চাপে পড়ে আবারো ঋণ করে বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি। অভিভাবকদের অনেকের মতে, শিক্ষক নামীয় এই সকল প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রধান ও কতিপয় শিক্ষক করোনা মহামারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও যেভাবে বকেয়া বেতন আদায় করছে তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। তাদের মতে, শিক্ষার জন্য নয় শুধু টাকার জন্য প্রতিষ্টান চালানো হয়। কে মরল, আর কে বাচল এটা তাদের ভাবনার বিষয় নয়। সচেতন অভিভাবকগণ এ সব প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারির দাবি করেছেন।

HostGator Web Hosting