| |

সর্বশেষঃ

৩ আগস্ট পর্যন্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ

আপডেটঃ 12:51 pm | July 01, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার শর্ত দিয়ে সীমিত গণপরিবহন ও অফিস চালু রাখাসহ ১১টি নির্দেশনা নিয়ে আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তাররোধ এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলী এবং জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো:

আগামী ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিয়ন্ত্রণের অন্তর্ভুক্ত।

এসময়ে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাসস্থানের বাইরে আসা যাবে না। তবে বাসস্থানের বাইরে সর্বাবস্থায় চলাচলের সময় মাস্ক পরিধান, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাটবাজার, দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আসা যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমল অবশ্যই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জারি করা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে খোলা থাকবে।

গণপরিবহনসহ সবধরনের যান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে চলাচল করবে।

এসময়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স/ডিস্টেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনিক কার্যাবলী চালাতে পারবে।

এসময়ে সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা পরিচালনা করা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি জোনভিত্তিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কৌশল/গাইড অনুসরণ করে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে হবে। রেড জোন ঘোষণা করে সে এলাকার কেবল গুরুতর সংক্রমিত পরিসীমাকে লকডাউনের আওতায় আনতে হবে। সেখানে সর্বসাধারণের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্য, বিষয়াদির সরবরাহ/প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট অনুমোদন ও নির্দেশনা দেবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য জেলা এলাকায় জেলা প্রশাসন এ সংক্রান্ত কার্যাবলীর সার্বিক সমন্বয় করবে।

ঈদুল আজহার সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশুর হাট আয়োজনের অনুমতি দেওয়া যাবে এবং উল্লেখিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন ও জনচলাচল অব্যাহত থাকবে।

এসময়ে ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

জনসাধারণকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য করণীয় বিষয় অনুসরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

HostGator Web Hosting